আলোচনা সভায় বক্তারা
এইচআইভি প্রতিরোধে অতীতে সাফল্য থাকলেও বর্তমানে সংক্রমণ বাড়ছে
আলোচনা সভা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:২৩
বাংলাদেশে তরুণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের প্রবণতা উদ্বেগজনক। এইচআইভি প্রতিরোধে বাংলাদেশের অতীতে সাফল্য থাকলেও বর্তমানে নতুন করে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই ভাইরাস আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের পদ্মা ট্রেনিং রুমে এইচআইভি বিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সমাজসেবা অধিদপ্তর, যুব ও ক্রীড়া এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করার লক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়। সম্প্রতি দেশের চারটি জেলায় এইচআইভি সচেতনতা প্রশিক্ষণ এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যে বিষয়গুলো উঠে এসেছে, তা সভায় তুলে ধরা হয়। সভায় ইউএনএইডস, ইউনিসেফ এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান বলেন, এইচআইভি প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করলেও বর্তমান চিত্র বেশ চিন্তার। বিশেষ করে নারী যৌনকর্মী, হিজড়া সম্প্রদায়, সমকামী পুরুষ এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে এই সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে অসচেতনতা, সামাজিক কুসংস্কার এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার অপ্রতুলতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
সায়মা খান বলেন, শুধুমাত্র সামাজিকভাবে সামান্য সাহায্য না দিয়ে বরং আক্রান্তদের স্বাবলম্বী করার জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা অনেক বেশি কার্যকর। একই সঙ্গে তিনি সরকারি নীতিমালার মাধ্যমে আক্রান্তদের মৌলিক অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডা. সাইদুর রহমান বলেন, যেসব শিশুরা বাবা-মায়ের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছে তাদের কোনো দোষ নেই, তাদের বিশেষ যত্ন ও সুরক্ষা প্রয়োজন। অন্যদিকে হিজড়া সম্প্রদায় ও যৌনকর্মীদের এনআইডি কার্ড না থাকায় তারা অনেক সময় কারিগরি প্রশিক্ষণ বা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তারা অনৈতিক কাজের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন।
সভাপতির বক্তব্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দারিদ্র্য এবং সামাজিক অবহেলাই অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে। সচেতনতার অভাবে মানুষ সেবা নিতে ভয় পায়। তিনি থাইল্যান্ডের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে ব্যাপক প্রচারণার ফলে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক সমীর মল্লিক, মোস্তফা মোস্তাকুর রহমান, এনপিডি মো. সফিকুল হক, ইউএনএইডস-এর প্রতিনিধি ফুরকান আহমেদ, ইউনিসেফের প্রতিনিধি জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, এইচআইভি নির্মূলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, সামাজিক কুসংস্কার দূর করা এবং আক্রান্তদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া জরুরি। জেলাভিত্তিক অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সামাজিক বৈষম্য ও লোকলজ্জার ভয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হন না। বাংলাদেশে মাত্র দু-একটি হাসপাতালে এইচআইভি আক্রান্তদের সার্জারি বা অস্ত্রোপচার করা হয়, যা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে বড় একটি বাধা। এই সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
- বিষয় :
- এইচআইভি আক্রান্ত
