ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মাথাঘোরার সমস্যা কমাতে করণীয়

মাথাঘোরার সমস্যা কমাতে করণীয়
×

 ডা. সাহিদা সুলতানা সিমু

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ | ০৮:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

মাথাঘোরা বা ভার্টিগো এমন একটি অবস্থা, যেখানে মনে হয় আক্রান্ত ব্যক্তি ঘুরছেন বা তাঁর চারপাশ ঘুরছে। সঙ্গে থাকে বমি বমি ভাব ও বমি। মাথাঘোরার রয়েছে নানা কারণ। যেমন– বিনাইন প্যারোক্সিসমাল পজিশনাল ভার্টিগো; এটি খুব গুরুতর নয়। চিকিৎসায় এটি পুরোপুরি ভালো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ করে মাথা কোনো একদিকে ফেরালে বা নির্দিষ্ট দিকে মাথা ঘোরালে মাথাঘোরা শুরু হয়।
অন্তঃকর্ণের প্রদাহ: সাধারণত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে অন্তঃকর্ণে প্রদাহ হয়ে মাথাঘোরা দেখা দিতে পারে। এতে হঠাৎ করেই মাথাঘোরা শুরু হয়। পাশাপাশি শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে।
মেনিয়েরস ডিজিজ: এটি কানের একটি রোগ। তিনটি উপসর্গ একসঙ্গে থাকে– মাথাঘোরা, কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ শব্দ এবং শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া। এ রোগে আক্রান্তরা কিছুদিন পুরোপুরি সুস্থ থাকেন, আবার হঠাৎ উপসর্গ দেখা দেয়।

অ্যাকোস্টিক নিউরোমা: এটি স্নায়ুর টিউমার। এ ছাড়া সেরিবেলার রক্তক্ষরণ, মাল্টিপল স্কলেরোসিস, মাথায় আঘাত ও মাইগ্রেনের কারণেও মাথাঘোরা হতে পারে।
চিকিৎসকের যখন প্রয়োজন: বেশির ভাগ মাথাঘোরা মারাত্মক নয়। তারপরও মাথাঘোরা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, মাথাঘোরার পেছনে মারাত্মক কারণও থাকতে পারে। মাথাঘোরার সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, একটি জিনিস দুটি দেখা, হাঁটতে সমস্যা হওয়া, কথা জড়ানো বা স্পষ্ট না হওয়া, শারীরিক দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
মাথাঘোরার চিকিৎসা: বিপিপিভি হলে সাধারণত ওষুধের প্রয়োজন পড়ে না। তবে সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রোমেথাজিন বা মেকলাইজিন সেবন করা যেতে পারে। ওষুধ সেবন করে দেরিতে চিকিৎসকের কাছে গেলে রোগ নির্ণয়ে সমস্যা হতে পারে। বিপিপিভি আক্রান্তদের জন্য ভেস্টিবুলার রিহ্যাবিলিটেশন এক্সারসাইজ আছে, যা এপলি ম্যানুভার নামে পরিচিত। এতে নির্দিষ্ট কৌশলে মাথা বিভিন্ন দিকে কাত করে শোয়ানো ও বসানো হয়, যাতে অন্তঃকর্ণের কণাগুলো সঠিক স্থানে ফিরে যায়। অন্তঃকর্ণের ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে।
লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

আরও পড়ুন

×