ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আলোচনা সভায় বক্তারা

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বার্তা সবার কাছে পৌঁছায়নি

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ বার্তা সবার কাছে পৌঁছায়নি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬ | ০৮:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে ডায়াবেটিস সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের বার্তা এখনও সবার কাছে পৌঁছায়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, কারণ জানার পরও জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আনায় দিন দিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।

শনিবার ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বারডেম মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারডেম একাডেমির পরিচালক অধ্যাপক মো. ফারুক পাঠান।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ১৮ বছর বা এর বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ১৪ শতাংশ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, যা ১৯৯০ সালে ছিল ৭ শতাংশ। ২০২১ সালে ডায়াবেটিস সরাসরি ১৬ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়। এ ছাড়া কিডনি রোগে ৫ লাখ ৩০ হাজার মৃত্যুর পেছনে ডায়াবেটিস দায়ী ছিল। হৃদরোগজনিত মৃত্যুর প্রায় ১১ শতাংশের সঙ্গে ডায়াবেটিস যুক্ত। ডায়াবেটিসজনিত মৃত্যুর প্রায় ৪৭ শতাংশ ৭০ বছর বয়সের আগেই ঘটেছে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলেন, প্রচারণার ফলে মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বেড়েছে। শারীরিক দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ওজন কমে গেলে অনেকেই পরীক্ষা করছেন। তবে আক্রান্ত হওয়ার পরও অনেকে নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলো সঠিকভাবে শিখে দৈনন্দিন জীবনে মেনে চলেন না। এ ক্ষেত্রে আরও কার্যকর সচেতনতা কার্যক্রম প্রয়োজন।
তিনি জানান, দেশে যত মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, প্রায় সমসংখ্যক মানুষ প্রি-ডায়াবেটিসে ভুগছেন। অথচ খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা কম। অনেকে ফাস্টফুড বলতে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবার বোঝেন। কিন্তু নিয়মিত তেলে ভাজা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাচ্ছেন। তাঁর মতে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য। এজন্য ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের কারণে বিশ্বজুড়ে ডায়াবেটিস রোগী বাড়ছে। উন্নত দেশের চেয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৃদ্ধির হার বেশি। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিক ফেডারেশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত।
আরও বক্তব্য দেন সমিতির ন্যাশনাল কাউন্সিল সদস্য অধ্যাপক ইমেরিটাস ডা. হাজেরা মাহতাব, মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, বারডেমের মহাপরিচালক অধ্যাপক মির্জা মাহবুবুল হাসান প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×