প্রাক-ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়
কর্নেল ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬ | ০৭:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রাক-ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলেও ডায়াবেটিস নির্ণয়ের সীমা অতিক্রম করে না। এটি সরাসরি ডায়াবেটিস না হলেও ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।
গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন না আনলে প্রাক-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক মানুষ ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন।
এ অবস্থায় সাধারণত তেমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তবে শরীরের কিছু অংশে কালচে দাগ, বিশেষ করে ঘাড়ের পেছনে, বগলের নিচে বা কুঁচকিতে প্রাক-ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত হতে পারে। এ অবস্থাকে অ্যাকানথোসিস নিগ্রিক্যান্স বলা হয় এবং এটি ইনসুলিন প্রতিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। যখন প্রাক-ডায়াবেটিস ডায়াবেটিসে রূপ নিতে শুরু করে, তখন কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন– অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্ষুধা বৃদ্ধি, দুর্বলতা, ঝাপসা দৃষ্টি, হাত-পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতি, সংক্রমণ বারবার হওয়া এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া।
প্রাক-ডায়াবেটিস শুধু ডায়াবেটিসের ঝুঁকিই বাড়ায় না; বরং হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং স্ট্রোকের মতো জটিল রোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করে।
এ অবস্থায় করণীয় হলো জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল বেশি খাওয়া এবং অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত শর্করা কমানো উচিত।
ধূমপান পরিহার, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সময়ে সচেতন হলে প্রাক-ডায়াবেটিস অবস্থা থেকে ফিরে আসা সম্ভব এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়।
লেখক : মেডিসিন স্পেশালিস্ট ও এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট।
- বিষয় :
- ডায়াবেটিস
