হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ ও করণীয়
ডা. শাহজাদা সেলিম
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ডায়াবেটিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা পুরোপুরি নিরাময় করা যায় না। তবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। ডায়াবেটিসে সাধারণত দুই ধরনের জটিলতা দেখা যায়। এক ধরনের সমস্যা হঠাৎ করে দেখা দেয়, যে ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্য ধরনের সমস্যা ধীরে ধীরে শরীরে প্রভাব ফেলে। উভয় ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ হলেও হঠাৎ সৃষ্ট জটিলতা দ্রুত সমাধান করা না গেলে তা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ডায়াবেটিসে হঠাৎ যে জটিলতাগুলো বেশি দেখা যায়, তার মধ্যে রয়েছে হাইপোগ্লাইসেমিয়া, ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস এবং হাইপারওসমোলার নন-কিটোটিক কোমা। হাইপোগ্লাইসেমিয়া ডায়াবেটিস একটি অত্যন্ত সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা। এটি এমন একটি অবস্থা, যখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। সাধারণত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ৩ মিলিমোল প্রতি লিটারের নিচে নেমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ডায়াবেটিক রোগী জীবনের কোনো না কোনো সময় এ সমস্যার সম্মুখীন হন।
হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, বুক ধড়ফড় করা, অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা, বমি ভাব, ঘাম হওয়া, অস্থিরতা, টেনশন, কাউকে চিনতে না পারা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা যায়। অনেক সময় সব উপসর্গ একসঙ্গে দেখা যায় না, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে উপসর্গ খুবই কম বা অনুপস্থিত থাকতে পারে।
হাইপোগ্লাইসেমিয়ার প্রধান কারণের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট সময়ে খাবার না খাওয়া, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ইনসুলিন বা ওষুধ গ্রহণ করা, হঠাৎ অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা এবং দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকা সত্ত্বেও খাবার না খাওয়া।
এই অবস্থার চিকিৎসা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়, তত দ্রুত রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।
প্রথমত, রোগী সচেতন থাকলে তাঁকে দ্রুত গ্লুকোজ খাওয়াতে হবে। গ্লুকোজ না থাকলে চিনি, মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় পানীয় দেওয়া যেতে পারে। এতে দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ে।
যদি রোগী অচেতন থাকে বা মুখে কিছু দেওয়া সম্ভব না হয়, তবে ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হয়। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ২৫ শতাংশ গ্লুকোজ ইনজেকশন প্রয়োগ করা জরুরি এবং যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।
হাইপোগ্লাইসেমিয়া দীর্ঘ সময় অব্যাহত থাকলে রোগী অচেতনসহ গুরুতর জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই ডায়াবেটিক রোগী ও তার পরিবারের সদস্যদের এ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতা এবং সময়মতো পদক্ষেপই এ জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
লেখক : বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
- বিষয় :
- ডায়াবেটিস
