প্রোস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণ ও চিকিৎসা
ডা. মুন্সী আকিদ মোস্তফা
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রোস্টেট ক্যান্সার পুরুষদের মধ্যে একটি সাধারণ ক্যান্সার। ফুসফুসের ক্যান্সারের পরই এর অবস্থান। সাধারণত ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। যাদের পরিবারে এই ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দুই থেকে তিন গুণ বেশি।
প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত তেমন লক্ষণ দেখা যায় না। তবে পরবর্তী সময়ে প্রস্রাব-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, সহবাসের সময় ব্যথা, প্রস্রাবে বা বীর্যে রক্ত যাওয়া এবং পিঠ বা কোমরে ব্যথা হওয়া। ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে এসব উপসর্গ আরও তীব্র হয়।
রোগ নির্ণয়ের জন্য কয়েক ধরনের পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রক্তের পিএসএ পরীক্ষা, ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা, মাল্টি-প্যারামেট্রিক এমআরআই, প্রোস্টেট বায়োপসি এবং স্টেজিং পরীক্ষা, যার মাধ্যমে ক্যান্সার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কিনা তা নির্ধারণ করা হয়।
চিকিৎসানির্ভর করে রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, ক্যান্সারের স্তর ও গ্রেডের ওপর। প্রাথমিক পর্যায়ে সার্ভিলেন্স, প্রোস্টেটেকটমি এবং রেডিওথেরাপি ব্যবহার করা হয়। তৃতীয় পর্যায়ে প্রোস্টেটেকটমি, রেডিওথেরাপি এবং হরমোন থেরাপি প্রয়োগ করা হয়। চতুর্থ পর্যায়ে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের থেরাপি দেওয়া হয়।
প্রতিরোধের জন্য খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। টমেটো, রসুন, মাশরুম, বেগুন, ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন সবজি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। পাশাপাশি পেঁপে, তরমুজ, আম, বেল খাওয়া উপকারী। সয়া, তিসির বীজ, বাদাম, আখরোট এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। গ্রিন টি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি কমাতে ভূমিকা রাখে। দুগ্ধজাত খাবার ও লাল মাংস কম খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
প্রাথমিকভাবে পিএসএ পরীক্ষার মাধ্যমে এই ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব। যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায় এবং রোগীর আয়ুষ্কাল বাড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
লেখক: ইউরোলজিস্ট অ্যান্ড ইউরো অনকোলজিস্ট ও কনসালট্যান্ট
- বিষয় :
- ক্যান্সার
