ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গরমে বরফ-ঠান্ডা পানি পানের ক্ষতিকর প্রভাব

গরমে বরফ-ঠান্ডা পানি পানের ক্ষতিকর প্রভাব
×

 ডা. খাজা নাজিম উদ্দীন

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রকৃতিতে গরম পড়তে শুরু করলেই আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। তীব্র গরমে বাইরে থেকে ঘেমে-নেয়ে বাড়ি ফিরে ফ্রিজ খুলে বরফ-ঠান্ডা পানি পান করা অনেকের কাছে স্বস্তির প্রধান উপায়। কয়েক ঢোক ঠান্ডা পানি শরীরে তাৎক্ষণিক প্রশান্তি এনে দেয় ঠিকই, কিন্তু এই সাময়িক স্বস্তির পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি।
গরমে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খাওয়ার ফলে শরীরে যে সমস্যা দেখা দিতে পারে, তার মধ্যে অন্যতম হলো গলার সংক্রমণ। রোদ থেকে ফিরে হঠাৎ ঠান্ডা পানি পান করলে গলার টিস্যুগুলো তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এতে গলাব্যথা, সর্দি-কাশি ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে খাবারের পর ঠান্ডা পানি পান করলে মিউকাসের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বৃদ্ধি পায়।

ঠান্ডা পানি তৃষ্ণা দ্রুত নিবারণ করলেও শরীরের প্রকৃত পানির চাহিদা পূরণ করে না; বরং ঠান্ডা অনুভূতির কারণে মনে হয় আর পানি পান করার প্রয়োজন নেই। ফলে শরীরে পানির ঘাটতি থেকেই যায় এবং ধীরে ধীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, যা বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বরফ-ঠান্ডা পানি স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ক্রেনিয়াল স্নায়ুর মাধ্যমে হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এর ফলে হৃৎস্পন্দনের হার কমে গিয়ে দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে।
হজম প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও ঠান্ডা পানি বিরূপ প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পাকস্থলীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমিয়ে দেয়। ফলে হজমক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এতে খাদ্য ভাঙতে সমস্যা হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে হজমজনিত নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি ওজন বৃদ্ধির কারণ হিসেবেও বিবেচিত হয়। ঠান্ডা পানির প্রভাবে শরীরের মেটাবলিজম সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। ফলে চর্বি জমতে শুরু করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।
দাঁতের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব লক্ষণীয়। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি দাঁতের এনামেলকে সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে দাঁতে শিরশিরানি, ব্যথা এবং মাড়ির সংক্রমণ হতে পারে।
সুতরাং গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ঠান্ডা পানির প্রতি আকর্ষণ থাকলেও তা সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত এবং স্বাভাবিক বা হালকা ঠান্ডা পানি পান করাই অধিক নিরাপদ।
লেখক: চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

আরও পড়ুন

×