হাম ও হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু
সব ধরনের টিকার মজুত আছে ৬ মাসের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
অসুস্থ শিশুকে নিয়ে মায়ের উৎকণ্ঠা, আর পাশে অনিশ্চয়তার ভারে ন্যুব্জ স্বজনরা। হামের প্রকোপ বাড়ায় রাজধানীসহ সারাদেশের হাসপাতালে বাড়ছে রোগী। গতকাল বুধবার রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে মো. রাশেদ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশে সব ধরনের টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী ছয় মাস টিকাদান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। গতকাল বুধবার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যক্ষ্মা, বিসিজিসহ ৯টি টিকার সবই হাতে রয়েছে। পর্যাপ্ত টিকা মজুতের পাশাপাশি নতুন সরবরাহও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, ফলে টিকাদান কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। তবে অতীতের টিকা সরবরাহে ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, ২০২০ সালের পর থেকে আগের সরকারগুলো নিয়মিত টিকা দেয়নি, যার ফলে বর্তমান হাম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, হাম প্রতিরোধী টিকার ঘাটতি থাকলেও দ্রুত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তা পূরণ করা হয়েছে। গ্যাভি ও ইউনিসেফের সহায়তায় দ্রুত টিকা সংগ্রহ করে সারাদেশে প্রয়োগ শুরু করেছি। জলাতঙ্কের টিকা সংকট নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরবরাহ প্রক্রিয়ায় জটিলতা থাকায় বিলম্ব হয়েছিল। পরে সেই শর্ত শিথিল করে স্থানীয়ভাবে টিকা সংগ্রহ শুরু করা হয়েছে। ইনসেপ্টা ও পপুলার থেকে অ্যান্টি-রেবিস টিকা সংগ্রহ করছি। দেড় মাসের মধ্যে বাফার স্টক চলে আসবে।
গ্রামাঞ্চলে টিকার কোনো সংকট নেই বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এমএসআর ও এডিবি তহবিল থেকে টিকা কেনা হচ্ছে।
হামের চিত্র
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগে এবং একজন চট্টগ্রামে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯১৩ শিশু এবং ১২৯ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ২২৯ শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা গেছে; ৫৬২ জনই ঢাকা বিভাগের। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০৬ জন ঢাকা বিভাগের এবং সর্বনিম্ন ৯ জন রংপুর বিভাগের। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৭৮৬ শিশু হাসপাতাল ছেড়েছে, যাদের মধ্যে ৩৫২ জন ঢাকা বিভাগের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯০ শিশুর। এ সময়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ১৬৪।
