হাম ও হামের উপসর্গ
হাম থেকে সেরে উঠেও চলে গেল ৯ মাসের ইয়াদ
ইয়াদ হোসেন
তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৮:৩৯ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ০৯:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
প্রবাসী ইকবাল হোসেন বিয়ে করার কিছুদিন পর কর্মস্থল ওমানে চলে যান। তাঁর অনুপস্থিতিতেই ঘর আলো করে এসেছিল ইয়াদ হোসেন। দিনে দিনে বড় হয়ে ওঠে সে। ৯ মাস বয়সী ইয়াদের জন্য সেট মিলিয়ে কেনা হয় পাঞ্জাবি-পায়জামা ও টুপি। সেগুলো পরানোর পর ছবি পাঠানো হয় বাবার কাছে। ভিডিও কলেও দেখানো হয়। কিন্তু এসব এখন শুধুই স্মৃতি। হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় দুই হাসপাতালে ২১ দিন চিকিৎসার পরও বাঁচানো যায়নি ইয়াদকে।
গত বুধবার ভোরে মারা যায় শিশুটি। হাসপাতালের শয্যায় মা’সহ স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছিল পরিবেশ। কিছুদিন পর ছেলেকে দেখতে দেশে আসার কথা ছিল ইকবাল হোসেনের। সামনা-সামনি দেখার আগেই চিরতরে বিদায় নিল ইয়াদ।
ইকবালের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভা এলাকায়। গত ১১ এপ্রিল জ্বর হওয়ায় ইয়াদকে প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে ১৬ এপ্রিল তাকে চট্টগ্রাম নগরীতে মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ইয়াদ।
শুক্রবার ইয়াদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকে স্তব্ধ পরিবারের সদস্যরা। নাতির কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন দাদা আমির হোসেন।
তিনি সমকালকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইয়াদ এক পর্যায়ে সুস্থ হয়ে যায়। তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে হাসপাতাল থেকে ছেড়েও দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা তার শারীরিক অবস্থা দেখে সেই ঝুঁকি নেইনি। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা তাকে হাসপাতালের এইচডিইউ থেকে আরও পর্যবেক্ষণের জন্য কেবিনে নিয়ে যাই। চার দিনের মাথায় ফের অবস্থার অবনতি হলে আইসিউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চার দিন পর তার মৃত্যু হয়।’
ইয়াদের দাদি বেবী আকতার ক্যান্সার আক্রান্ত। তার চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু নাতি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে নিজের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন না তিনি। গত ঈদের দিন তোলা ইয়াদের ছবিতে বারবার হাত বোলানোর সময় চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল তাঁর। তিনি সমকালকে বলেন, ‘ইয়াদ আমাদের ঘর আলো করে আসার পর থেকে তাকে নিয়েই দিন কাটত। সময় পেলে আমার ছেলে বিদেশ থেকে ভিডিওতে তাকে দেখত। কিছুদিন পর তার দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু কী থেকে কী হয়ে গেল, বুঝতে পারছি না। সব হাসিখুশি নিয়ে একেবারে চলে গেছে আমাদের ইয়াদ।’ আমির হোসেনের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, মৃত্যুর পর একেবারে পাগলের মতো হয়ে গেছে ইয়াদের মা।
যোগাযোগ করা হলে মা শিশু হাসপাতালের চিকিৎসক মিশু তালুকদার সমকালকে বলেন, ‘শিশু ইয়াদ সুস্থ হয়ে উঠলেও ফের অবস্থার অবনতি ঘটে। করোনার মতো হামের কারণেও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। ইয়াদেরও এমনটি হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাকে বাঁচাতে পারিনি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শুধু ইয়াদ নয়, সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর আরও অনেককে হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। কারও কারও মৃত্যু ঘটছে। বিষয়টি আমাদেরও দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।’
