ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

আরও তিনজনের মৃত্যু

হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু কমলেও পরিস্থিতি বিপজ্জনক

হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু কমলেও পরিস্থিতি বিপজ্জনক
×

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৮:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৬০ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৯৬৫ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮৪ জন। নতুন মারা যাওয়া তিন শিশু রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিল বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৯০ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে ২৫০ জনের। এরপর রাজশাহীতে ৮৮, সিলেটে ৭৪, চট্টগ্রামে ৫০, বরিশালে ৩৯, ময়মনসিংহে ৫৪, খুলনায় ২৭ এবং রংপুরে ৮ জন মারা গেছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বেশি। ঢাকা বিভাগে ৩৬৭ জন রোগীর মধ্যে ৩০৫ জন, রাজশাহীতে ৫২ জনের মধ্যে ৪৭ জন, সিলেটে ৬৫ জনের মধ্যে ৬০ জন, চট্টগ্রামে ২১০ জনের মধ্যে ২১০ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৬০ জনের মধ্যে ৫৭ জন, খুলনায় ৮৪ জনের মধ্যে ৮৩ জন, রংপুরে ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন এবং বরিশালে ১১০ জনের সবাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৪৩ জন। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৯৮৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ বলেন, সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী হামের প্রকোপ বর্তমানে কমছে। তবে এটি মূলত সন্দেহজনক কেস রিপোর্টের ভিত্তিতে তৈরি চিত্র।

তিনি জানান, হাসপাতালগুলো থেকে পাঠানো সন্দেহভাজন রোগীদের কেস রিপোর্ট ফরম এবং বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থায় পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতেই পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমলেও পরিস্থিতি এখনও বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে–এটি একটি অবৈজ্ঞানিক ধারণা। এতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বাড়তে পারে। তার মতে, এখন প্রয়োজন কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং দ্রুত রোগী শনাক্ত করে আইসোলেশন নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, মৃত্যুহার কমে আসা টিকার কার্যকারিতার ইতিবাচক দিক। তবে তিনি বলেন, ৯৫ শতাংশ টিকাদানের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার ঘাটতির কারণে টিকাদান কম হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সঠিক নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ ও সার্ভেইলেন্সের ঘাটতির কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে এখন পর্যন্ত ভাইরাসে বড় কোনো মিউটেশন ধরা পড়েনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত্যুহার কমলেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে টিকাদান নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন

×