খাদ্যের প্যাকেটে সতর্কবার্তা চালুর দাবি বিশেষজ্ঞদের
ছবি- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ০০:২৬ | আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ০১:০৪
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে খাদ্যপণ্যের সামনের অংশে সহজ ও বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে এ নীতি বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে প্যাকেটজাত খাদ্যের সামনের অংশে লেবেলিং (এফওপিএল) বিষয়ক গণমাধ্যম প্রচারাভিযান’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্থূলতা ও কিডনি রোগসহ অসংক্রামক রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই এসব প্রতিরোধযোগ্য রোগে ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ট্রান্সফ্যাটের অনিয়ন্ত্রিত উপস্থিতি এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।
অনুষ্ঠানে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বি মানুষের স্বাস্থ্যকে নীরবে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। শিশু ও তরুণদের সুরক্ষায় এফওপিএল নীতিমালার বিকল্প নেই। সরকার এ বিষয়ে প্রবিধানমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানান।
গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বাংলাদেশে সহজ ও বাধ্যতামূলক এফওপিএল নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে খাদ্য পরিবেশ নিরাপদ করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতিক ইজাজ বলেন, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ধারাবাহিক প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ সামসুন নাহার মহুয়া বলেন, শিশু-কিশোরদের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে, যা অল্প বয়সেই স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করছে। খাদ্যের প্যাকেটের সামনের সহজ সতর্কবার্তা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে সহায়তা করবে।
বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর আবু রুশদ মো. রুহুল আমিন বলেন, এফওপিএল এমন একটি সহজ লেবেলিং ব্যবস্থা, যা খাদ্যপণ্যের সামনের অংশেই অতিরিক্ত ক্ষতিকর উপাদান সম্পর্কে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ক্রেতাকে সতর্ক করে। চিলি ও মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশে এ ব্যবস্থা চালুর ফলে ভোক্তা সচেতনতা বেড়েছে এবং উৎপাদকরাও তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর পণ্য বাজারে আনতে উৎসাহিত হয়েছেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, জনস্বাস্থ্যের এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার বিকল্প নেই।
কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, খাদ্যশিল্প, গবেষক, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট অব প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) নীতি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তাঁরা।
- বিষয় :
- খাদ্যপণ্য
- সতর্কবার্তা