ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব ডা. জোবাইদার

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব ডা. জোবাইদার
×

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রক্তদাতাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ডা. জোবাইদা রহমান পিআইডি

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

থ্যালাসেমিয়া ও জন্মগত বিরল রোগে আক্রান্তদের জন্য দেশব্যাপী ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জোবাইদা রহমান। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘রক্তদাতা সম্মাননা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রস্তাব দেন।
জোবাইদা রহমান বলেন, দেশজুড়ে বহু মানুষ থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে জীবনের শেষ দিনগুলো অতিবাহিত করছেন। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত পরিবারকে সহযোগিতা করা ও নিরাময় সম্পর্কে আশ্বাস দেওয়া জরুরি। অনেকে অবহিত নন যে, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধি। তারা অবহিত নন থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা সম্পর্কে। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সচেতন ব্যক্তিরা মানবিক সমাজ গঠনে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন। 

তিনি বলেন, দেশজুড়ে থ্যালাসেমিয়া ও অন্যান্য জন্মগত এবং বিরল রোগে আক্রান্ত মানুষের একটি ডেটাবেজ প্রস্তুত করার পথে এগিয়ে যাওয়া উচিত। একটি রেজিস্টার অনুযায়ী কাজ করা প্রয়োজন। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের শতভাগ সুস্থ করতে না পারলেও তাদের এবং পরিবারকে সান্ত্বনা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। 
সচেতনতা সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে ডা. জোবাইদা বলেন, অন্তঃসত্ত্বাকালে পরীক্ষা করে এটি শনাক্ত করা যায়। যে কোনো বয়সেই বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি শনাক্ত করা যায়। দেশবাসীকে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতন করা ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে চালানো যায়। এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সময় তাদের থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দেওয়া যেতে পারে। এর উপসর্গ, চিকিৎসা ও রোগীকে আশ্বস্ত করার পদ্ধতি সম্বন্ধে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।

শনাক্ত হওয়া রোগীদের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সেবা দেওয়ার পর্যায় নির্ধারণ করতে তিনি পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘শনাক্তকরণের পর ধাপে ধাপে বিভক্ত করা যায় রোগীদের, যেমন– থ্যালাসেমিয়া মেজর, থ্যালাসেমিয়া মাইনর এবং থ্যালাসেমিয়া ট্রেইট। চিকিৎসকরা যতদূর সম্ভব সতর্কতা ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে চিকিৎসা দিলে রোগী ও তার পরিবার অনেকাংশে চিন্তামুক্ত ও আশ্বস্ত হবেন।’
স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের ধন্যবাদ জানান জোবাইদা রহমান। তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের এই অসামান্য মানবিক কাজের জন্য জানাই মোবারকবাদ। আমি আজ বিশেষভাবে অভিনন্দন জানাই আমার কন্যা জাইমা রহমানকে, যিনি একজন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা। এযাবৎ তিনি সাতবার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।’
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×