ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হঠাৎ জ্বর হলে কী করবেন

হঠাৎ জ্বর হলে কী করবেন
×

প্রতীকী ছবি

ডা. রতীন্দ্র নাথ মণ্ডল

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৩ | ০৬:৩২ | আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৩ | ০৭:৫০

বিভিন্ন কারণে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। হঠাৎ যদি দেখেন আপনার বা আপনার পরিবারের কারও শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে তাহলে কী করবেন, তা জেনে নিন।

শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেলে দুশ্চিন্তা না করে প্রথমে থার্মোমিটার দিয়ে তাপমাত্রা মাপবেন। শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাটের কম। এই তাপমাত্রা দিনের বিভিন্ন সময় পরিবর্তন হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তাপমাত্রা কম থাকে; বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে বেড়ে যায়। সকালের দিকে তাপমাত্রা যদি ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাট বা তার বেশি হয় আবার দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে যদি ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয় তবে সেটা জ্বর।

জ্বর কেন হয়?

শরীরে যদি কোনো জীবাণুর মাধ্যমে (যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা প্যারাসাইট) ইনফেকশন হয় তাহলে জ্বর হয়। তবে জ্বরের মধ্যে ৮০ শতাংশই সাধারণ ভাইরাল জ্বর।

জ্বর ও জ্বর-জ্বর ভাবের মধ্যে পার্থক্য?

অনেকে মাথাব্যথা করলে বা গোসল করার সময় পানি দিলে ঠান্ডা লাগলে এটাকে জ্বর মনে করে। থার্মোমিটার দিয়ে পরিমাপ করলে দেখা যায় তাপমাত্রা স্বাভাবিক। এটাকেই বলা হয় জ্বর-জ্বর ভাব। জ্বর-জ্বর ভাবের জন্য শরীরের তাপমাত্রা কমানোর প্রয়োজন নেই। তাই এমন হলে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়ারও দরকার নেই।

জ্বর হলে করণীয়?

জ্বর হলে এর কারণ বের করে চিকিৎসা দিতে হবে। তার আগে শরীরের তাপমাত্রা কমাতে হবে। এর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ৫০০ মিলিগ্রাম করে দিনে ৩ থেকে ৪ বার খাওয়া যাবে। এ ছাড়াও তাপমাত্রা কমানোর জন্য ফ্যান ছেড়ে দেওয়া, এসির ভেতরে থাকা, গোসল করা, কুসুম গরম পানির মধ্যে গামছা বা টাওয়েল ভিজিয়ে সারা শরীর মুছে দেয়া ইত্যাদি করা যায়। ভাইরাসজনিত জ্বর সাধারণত ৩ দিন পর কমে যায়। যদি তিন দিনের মধ্যে জ্বর না কমে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে জ্বরের সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

জ্বর হলে যা করা উচিত নয়

১. জ্বর কমানোর জন্য ব্যথানাশক ওষুধ যেমন ডাইক্লোফেনাক ব্যবহার করা যাবে না।

২. এমবিবিএস চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ও স্ট্রয়রেড জাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে না।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, প্রাইম মেডিকেল কলেজ, রংপুর ও প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তারখানা (জিপি সেন্টার)।

আরও পড়ুন

×