জ্বরের প্রাথমিক পরিচর্যা
প্রতীকী ছবি
অধ্যাপক ডা. মনজুর হোসেন
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৩ | ০৭:৪১ | আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৩ | ১৪:১১

শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হলো ৯৬.৪ থেকে ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। শরীরের তাপমাত্রা যখন ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট হয়, তখন তাকে সামান্য জ্বর বলে। জ্বর ১০২ ডিগ্রি হলে মৃদু এবং ১০৪ ডিগ্রি হলে উচ্চমাত্রার জ্বর বলা হয়।
জ্বরের প্রাথমিক চিকিৎসা
কুসুম গরম পানি দিয়ে স্পঞ্জ করতে হবে বা শরীর মুছে দিতে হবে। শরীর মোছা চালিয়ে যেতে হবে, যতক্ষণ জ্বর ১০০ ডিগ্রিতে নেমে না আসে; প্রয়োজনবোধে বাতাস করতে হবে।
মাথায় পানি ঢালা যেতে পারে এবং কপালে পানিপট্টি দেওয়া যেতে পারে।
কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করানো যেতে পারে।
প্রচুর তরল খাদ্য ও পানীয় খেতে দিতে হবে।
জ্বর ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে প্যারাসিটামল মাত্রানুযায়ী খাওয়াতে হবে।
শিশুর জ্বর চার ঘণ্টা পরপর মেপে তা চার্টে লিখে রাখতে হবে। ওষুধ খাওয়ালে তাও চার্ট উল্লেখ করতে হবে।
জ্বরের ওষুধ
জ্বর সাধারণত ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলে বয়স ও ওজন অনুযায়ী শিশুদের জ্বরের ওষুধ প্যারাসিটামল প্রয়োগ করা হয়।
জ্বরজনিত খিঁচুনি
উচ্চমাত্রার জ্বরে অনেক শিশুর খিঁচুনি হতে পারে। এ ছাড়া উচ্চমাত্রার জ্বর হলে শরীরে পানিশূন্যতাও দেখা দিতে পারে। সাধারণত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সে অনেক শিশুর জ্বর হলে সঙ্গে খিঁচুনি দেখা দেয়।
এই খিঁচুনি সাধারণত জ্বরের ঊর্ধ্বগতির বেগের ওপর নির্ভর করে এবং ১০-১৫ মিনিট স্থায়ী হয়। খিঁচুনি জ্বরের মধ্যে সাধারণত একবার হয় এবং পুরো শরীর আক্রান্ত করে
যাদের একবার খিঁচুনি হয়, তাদের পাঁচ-ছয় বছর বয়স পর্যন্ত আবার খিঁচুনি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
জ্বরজনিত খিঁচুনি হলে করণীয়
মেঝেতে অথবা তোশকে কাত করে শোয়াতে হবে।
গায়ের কাপড় সব ঢিলা করে দিতে হবে।
দাঁতে যাতে খিল না লাগে, এর জন্য চায়ের চামচে কাপড় পেঁচিয়ে দুই পাটি দাঁতের মধ্যে ঢোকাতে হবে এবং জ্বর কমানোর জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
চিকিৎসকের নির্দেশমতো প্যারাসিটামল সিরাপ ও সেডিল ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে। জ্বরের প্রাথমিক পরিচর্যা সঠিকভাবে করলে জ্বরজনিত খিঁচুনির আশঙ্কা থাকে না।
জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হলে ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন। বাচ্চাদের বেশির ভাগ জ্বরই ভাইরাসজনিত। সে জন্য অ্যান্টিবায়োটিক নিষ্প্রয়োজন। অহেতুক অ্যান্টিহিস্টামিন ব্যবহারও বাঞ্ছনীয় নয়।
কখন ডাক্তারের পরামর্শ প্রয়োজন
তিন দিনের বেশি জ্বর থাকলে।
জ্বরের সঙ্গে বা পরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে।
জ্বরের সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্ট থাকলে।
পানিশূন্যতা বা অত্যধিক দুর্বলতা দেখা দিলে।
খিঁচুনি হলে।
লেখক : শিশুরোগ ও শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং সভাপতি, বাংলাদেশ শিশু সংক্রামক ব্যাধি সমিতি