করোনার দিনলিপি
সংকট-আতঙ্কে প্রবাসী শ্রমিকরা
×
মালয়েশিয়ার রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা - আলজাজিরা
বকুল আহমেদ
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২০ | ১২:৩৮ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
চাঁদপুরের আনোয়ার হোসেন শ্রমিক ভিসায় মালয়েশিয়ায় গেছেন কয়েক বছর আগে। সেখানকার পুত্রাজায়ার সাইবারজায়া এলাকায় একটি কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন। বেশ ভালোই চলছিল তার। তবে চলমান প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ওলটপালট করে দিয়েছে সবকিছু। বিদেশের মাটিতে করোনা আতঙ্ক আর খাদ্য সংকটে দিন পার করতে হচ্ছে তাকে। তিনি যে কোম্পানিতে চাকরি করছেন, ওই কোম্পানিতে তিন শতাধিক বাংলাদেশি রয়েছেন শ্রমিক হিসেবে। করোনাভাইরাসের কারণে ১৮ মার্চ থেকে কোম্পানি কাজ বন্ধ রেখেছে। এ অবস্থায় বেকার হয়ে আছেন শ্রমিকরা।
ফোনে সমকালকে আনোয়ার বলেন, 'কাজ বন্ধ। ঘরেই থাকতে হচ্ছে। হাজিরা পাব না। মার্চের বেতনও হাতে পাইনি এখনও। মাসে যা আয় করি, মাসেই দেশে পাঠিয়ে দিই। কিছু টাকা হাতে ছিল, তা দিয়ে এই ক'দিন চললাম। এখন গচ্ছিত কোনো টাকা নেই। জিনিসপত্রের দামও বেড়ে গেছে। কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। বিদেশের মাটিতে বসে খুব অসহায় লাগছে। খাবার সংকট আর করোনা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি।'
২৪ জানুয়ারি মালায়েশিয়ায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ১৮ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ লকডাউন। বিনা কারণে ঘর থেকে বের হলে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। লকডাউন ঘোষণার পর থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, অফিস-আদালত, কলকারখানাসহ বিভিন্ন কোম্পানি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে ১০ লাখ ৫৭ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন। বেশিরভাগ শ্রমিকের কাছে নগদ টাকা নেই। লকডাউনের কারণে কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মার্চ মাসের বেতন পাননি তারা। অবৈধ অভিবাসীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। এ অবস্থায় দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠানো দূরে থাক, তাদের নিজেদেরই খাওয়ার খরচ দুস্কর হয়ে পড়েছে।
মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ার সাইবারজায়া এলাকায় কর্মরত একাধিক প্রবাসী ফোনে সমকালকে জানান, সেখানকার একটি কোম্পানিতে সাত শতাধিক শ্রমিকের মধ্যে তিন শতাধিক শ্রমিক বাংলাদেশের। ১৮ মার্চ থেকে কোম্পানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মার্চের বেতন এখনও হাতে পাননি তারা। হাতে টাকা না থাকায় বড্ড সমস্যায় পড়েছেন তারা। চাল-ডাল-আলু থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। যারা নির্দিষ্ট দোকান থেকে মালপত্র বাকি কেনেন, এ অবস্থায় দোকানি বাকি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের নবীননগরের মনোয়ার হোসেন কয়েক বছর ধরে মালায়েশিয়ায় রয়েছেন। তিনি পুত্রাজায়ার সাইবারজায়া এলাকার একটি কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন। ফোনে তিনি সমকালকে বলেন, দিন হাজিরায় কাজ করেন। কাজ করলে হাজিরা পান। ১৮ মার্চ কোম্পানি কাজ বন্ধ করলেও ১৮ দিনের বেতন এখনও দেয়নি। কবে দেবে তাও জানি না। একটি দোকান থেকে জিনিসপত্র বাকি কিনতাম। এখন ওই দোকান থেকে বাকিতে মাল দিচ্ছে না। মালিকপক্ষ কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না। দিন চলার কোনো উপাই নেই। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আছি।'
প্রবাসী নরসিংদীর আবু ফয়েজ জানালেন তার কষ্টের কথা। তিনি বলেন, 'খুব কষ্টে আছি। কাজ বন্ধ। হাজিরাও পাব না। খাবারও পাচ্ছি না ঠিকমতো।' খুলনার আলমগীর হোসেন জানান, তিনি ১১ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে রয়েছেন। এতদিনে কোনো সংকটে পড়েননি, করোনাভাইরাসের কারণেই এখন তার অর্থ সংকট তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার পুত্রাজায়ায় মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এক মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, প্রবাসীদের খাদ্য সরবরাহসহ সব ধরনের সহায়তা করবে মালয়েশিয়া সরকার। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন খাদ্য সংকটে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের খাদ্য সরবরাহ করার পদক্ষেপ নিয়েছে।
ফোনে সমকালকে আনোয়ার বলেন, 'কাজ বন্ধ। ঘরেই থাকতে হচ্ছে। হাজিরা পাব না। মার্চের বেতনও হাতে পাইনি এখনও। মাসে যা আয় করি, মাসেই দেশে পাঠিয়ে দিই। কিছু টাকা হাতে ছিল, তা দিয়ে এই ক'দিন চললাম। এখন গচ্ছিত কোনো টাকা নেই। জিনিসপত্রের দামও বেড়ে গেছে। কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না। বিদেশের মাটিতে বসে খুব অসহায় লাগছে। খাবার সংকট আর করোনা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি।'
২৪ জানুয়ারি মালায়েশিয়ায় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ১৮ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ লকডাউন। বিনা কারণে ঘর থেকে বের হলে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। লকডাউন ঘোষণার পর থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, অফিস-আদালত, কলকারখানাসহ বিভিন্ন কোম্পানি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক বাংলাদেশি। মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে ১০ লাখ ৫৭ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন। বেশিরভাগ শ্রমিকের কাছে নগদ টাকা নেই। লকডাউনের কারণে কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মার্চ মাসের বেতন পাননি তারা। অবৈধ অভিবাসীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। এ অবস্থায় দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠানো দূরে থাক, তাদের নিজেদেরই খাওয়ার খরচ দুস্কর হয়ে পড়েছে।
মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ার সাইবারজায়া এলাকায় কর্মরত একাধিক প্রবাসী ফোনে সমকালকে জানান, সেখানকার একটি কোম্পানিতে সাত শতাধিক শ্রমিকের মধ্যে তিন শতাধিক শ্রমিক বাংলাদেশের। ১৮ মার্চ থেকে কোম্পানি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মার্চের বেতন এখনও হাতে পাননি তারা। হাতে টাকা না থাকায় বড্ড সমস্যায় পড়েছেন তারা। চাল-ডাল-আলু থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। যারা নির্দিষ্ট দোকান থেকে মালপত্র বাকি কেনেন, এ অবস্থায় দোকানি বাকি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের নবীননগরের মনোয়ার হোসেন কয়েক বছর ধরে মালায়েশিয়ায় রয়েছেন। তিনি পুত্রাজায়ার সাইবারজায়া এলাকার একটি কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করেন। ফোনে তিনি সমকালকে বলেন, দিন হাজিরায় কাজ করেন। কাজ করলে হাজিরা পান। ১৮ মার্চ কোম্পানি কাজ বন্ধ করলেও ১৮ দিনের বেতন এখনও দেয়নি। কবে দেবে তাও জানি না। একটি দোকান থেকে জিনিসপত্র বাকি কিনতাম। এখন ওই দোকান থেকে বাকিতে মাল দিচ্ছে না। মালিকপক্ষ কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না। দিন চলার কোনো উপাই নেই। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আছি।'
প্রবাসী নরসিংদীর আবু ফয়েজ জানালেন তার কষ্টের কথা। তিনি বলেন, 'খুব কষ্টে আছি। কাজ বন্ধ। হাজিরাও পাব না। খাবারও পাচ্ছি না ঠিকমতো।' খুলনার আলমগীর হোসেন জানান, তিনি ১১ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে রয়েছেন। এতদিনে কোনো সংকটে পড়েননি, করোনাভাইরাসের কারণেই এখন তার অর্থ সংকট তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার পুত্রাজায়ায় মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এক মন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, প্রবাসীদের খাদ্য সরবরাহসহ সব ধরনের সহায়তা করবে মালয়েশিয়া সরকার। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন খাদ্য সংকটে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের খাদ্য সরবরাহ করার পদক্ষেপ নিয়েছে।
