ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

করোনার কালে আইএস

করোনার কালে আইএস
×

ফাইল ছবি

মাসুদ আনোয়ার

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২০ | ০২:১৪

করোনার কালে পৃথিবী ওলট পালট। ট্রাম্পের মুখে ইরানের বিরুদ্ধে কুৎসার জায়গায় চীনের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার। মধ্যপ্রাচের উপসাগরের পানিও আপাতত প্রায় নিস্তরঙ্গ। যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীতেও করোনার হানা। ইরাক-সিরিয়ার খবর এ মুহূর্তে প্রধান সংবাদ শিরোনাম নয়। আর মধ্যপ্রাচ্যেও মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে বেড়ে ওঠা ইসলামিক স্টেটের কথা তো সংবাদ মাধ্যমগুলো প্রায় ভুলেই গেছে। ট্রাম্প এই অপশক্তিটাকে পরাজিত করা গেছে, এটা বিশ্বাস করেন মনে প্রাণে। সাধারণ মানুষ তার মতো অতটা আশাবাদী না হলেও আপাতত আইএসের ব্যাপারে ভেবে নিশ্চয় সময় নষ্ট করছে না।

তবে আইএস ভোলেনি। তারা হেরে গেলেও একদম নিশ্চিহ্ন হয়নি। বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও ক্ষুদ্রাংশগুলো নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে টিম টিম করে। 

তেমনি একটি ক্ষুদ্র অংশের কথা জানা গেছে। আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের কাবো দেলগাদো  প্রদেশে এদের আড্ডা। বিবিসির আফ্রিকান সংবাদদাতা অ্যান্ড্রু হার্ডিংয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তাদের বিষয়ে নানা তথ্য। উত্তরাঞ্চলীয় ওই প্রদেশটির দুটি শহরে আইএসের তৎপরতা শুরু হয়েছে। তারা এরই মধ্যে দুটো শহরে নিজেদের প্রাধান্য বিস্তার করেছে। শহরদুটোর বেশ কিছু মানুষ তাদের হাতে নিহত হয়েছে। তারা অস্ত্রবহন ও  প্রকাশ্যে শিরোচ্ছেদ শুরু করেছে।

একটি মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র একদল লোক একটা বিশাল সাদা ভবনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। কোথাও বন্দুকের শব্দ তাদের মধ্যে চাঞ্চল্য জাগাচ্ছিল। তাদের পরণে মোজাম্বিকের সেনাবাহিনীর পোশাক। দূরে কোথাও থেকে ‘আল্লাহু আকবর’ শব্দ আর তার সঙ্গে গুলির শব্দও ভেসে আসছে। গতমাসে মুইদুম্বে নামের একটি শহরে মোবাইল ফোনে ধারণ করা এই ভিডিও দেখে স্পষ্টই বোঝা যায়, শহরটিতে উত্তেজনা ও রক্তপাত দর্শনীয়ভাবে বেড়ে গেছে।

কয়েক সপ্তাহ আগে ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশের মৃতদেহ পড়ে আছে। জায়গাটা একটা থানা কিংবা অস্ত্রাগার হবে। পুলিশগুলোকে মেরে ফেলা হয়েছে এবং সম্ভবত অস্ত্রাগার লুট করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো স্বয়ংক্রিয়।

ভিডিওগুলো তোলা হয়েছে দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর মোকিম্বাও দা প্রাইয়া থেকে। গত ২৪ মার্চ শহরটি খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে নাটকীয়ভাবে ইসলামিক বিদ্রোহীদের কবলে চলে যায়। তার মাত্র দু’দিন পর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর কুইসাঙ্গাও দখল করে নেয় তারা। পেম্বার ক্যাথলিক  বিশপ লুই ফার্নান্দো লিসবোয়া বলেন, তাদের কাছে এখন বন্দুক আছে, গাড়িও আছে। তারা দ্রুত যে কোনো স্থানে যেতে পারে এবং হামলা চালাতে পারে। তারা সেনাদের পোশাক ব্যবহার করে। মানুষ বুঝতে পারে না কে সেনা আর কে বিদ্রোহী। তারা সারাক্ষণ ভয় আর আতঙ্কে থাকে।

দুইটি বড় এবং পরিকল্পিত সামরিক আক্রমণ থেকে এটা বোঝা যায় যে, আল শাবাব নামে পরিচিত স্থানীয় ধর্মীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে বেশ পরিবর্তন এসেছে। এর সঙ্গে অবশ্য সোমালিয়ার একই নামের সন্ত্রাসী দলটির কোনো সম্পর্ক নেই। সোমাািলয়ার দলটি মূলত আল কায়েদার একটি শাখা। 

মোজাম্বিকের এই বিদ্রোহী দলটির তৎপরতা  দুই বছর আগে থেকে শুরু হয়। প্রথম প্রথম তারা ছোটখাট ছিঁচকে ধরনের হামলা টামলা চালাত। প্রদেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের সব কর্মকা-। জনশূন্য সড়কে সেনা টহলের সময় অ্যাম্বুশ করত তারা। গ্রামীণ জনপদগুলোতে অত্যাচার চালাত। তাদের  ভয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

এ ব্যাপারগুলোতে খুব দ্রুতই সাড়া দেয় ইসলামিক স্টেটের আমাক এজেন্সি। তারা এদের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক রয়েছে বলে প্রচার করে দেয়।  

আইএস মোজাম্বিকে সাম্প্রতিক এক হামলার দায় স্বীকার করেছে। আফ্রিকার কয়েকটি দেশে তাদের কর্মকা- প্রসারিত করতে দেখা গেছে। কাবো দেলগাদো প্রদেশে তাদের কার্যক্রম দিয়ে সম্ভবত এটাই বোঝাতে চায়, তারা ধ্বংস হয়নি। তারা ধ্বংস হবে না। শিগগিরই আসছে নতুন করে।

একটা ভিডিওতে খাকি পোশাক পরিহিত একজনকে বলতে শোনা গেছে, ‘এই সরকার অবৈধ। আমরা তাই এসব দখল করছি।’ সূত্র : বিবিসি

আরও পড়ুন

×