কাবুলে হামলায় মাতৃহারা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন যে মা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২০ | ০১:২৬ | আপডেট: ১৮ মে ২০২০ | ০১:৪৭
গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের কাবুলে দাস-ই-বারচি হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে হামলা চালিয়ে জঙ্গিরা নবজাতক, মা ও নার্সসহ কমপক্ষে ২৪ জনকে হত্যা করে। ওই ঘটনার সময় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ফিরোজা ওমর বাড়িতে তার চার বয়সী শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। নৃশংস সেই ঘটনা শোনার পর তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সদ্য মাতৃহারা শিশুদের মুখ মনে করে তিনি ছুটে যান হাসপাতালে। এরপর নিজের বুকের দুধ খাওয়ান কয়েকজন নবজাতককে। পাশাপাশি তাদের সহযোগিতায় অনেককে সংগঠিত করেন।
২৭ বছর বয়সী ফিরোজা ওমর জানান, চার মাস বয়সী ছেলের মা হিসেবে, তিনি সদ্য মাতৃহারা শিশুদের কষ্ট অনুভব করেন। এ কারণে শিশুদের তিনি সেইভাবে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে যেসব মায়েরা ওই হামলায় মারা গেছেন বা গুরুতর আহত হয়েছেন তাদের শিশুদের সেবাযত্নের জন্য তিনি স্বেচ্ছাসেবী নার্স হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।
ফিরোজা জানান, তার স্বামী নিজেদের সন্তানকে দেখাশোনা করারা দায়িত্ব নেয়ায় প্রথম দিন তিনি দ্রুতই নিকটস্থ আতাতুর্ক শিশু হাসপাতালে ছুটে যেতে পেরেছিলেন। সেখানে প্রায় ১০০ নারী ও শিশুদের উদ্ধার করে আনা হয়েছিল।
হাসপাতালটি ফিরোজার বাড়ি থেকে অন্তত ২ কিলোটার দূরে অবস্থিত। তার উপর আবার এরকম হামলার পর শহরে একটা আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তারপরও মাতৃহারা শিশুদের সাহায্য করতে ফিরোজা ওই দিন ছুটে যান হাসপাতালে।
ফিরোজা বলেন, যখন আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে প্রায় ২০ টি শিশু ছিল। এর মধ্যে কয়েকজন আহতও ছিল।
ফিরোজা জানান, ওই সময় চিকিত্সা কর্মীরা শিশুদের গুঁড়ো দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কিছু শিশু তা খেতে চাচ্ছিল না।
ওই সময় তিনি নার্সদের সঙ্গে কথা বলে অনেক বেশি কান্নাকাটি করা শিশুদের নিজের বুকের দুধ খাওয়ানোর কথা জানান। পরে প্রথম রাতে ফিরোজা একে একে চারটি শিশুকে নিজের বুকের দুধ খাওয়াতে সক্ষম হন।
ফিরোজা বলেন, ‘শিশুদের দুধ খাইয়ে বেশ শান্তি লাগছিল। তাদেরকে সহায়তা করে খুশী হয়েছি।’
পরের দিনগুলিতে বাড়িতে তিনি নিজের ছেলেকে দেখাশোনার পাশাপাশি হাসপাতালে ফিরে শিশুদের খাওয়ানোর দায়িত্ব নেন। পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এরপর ফিরোজা সামাজিক মাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। সেই সঙ্গে অন্য মায়েদেরও সহযোগিতার আহ্বান জানান। ফিরোজা জানান, তার সেই আহবানে সাড়া দিয়ে এরই মধ্যে অনেক নারী এগিয়ে এসেছেন। এছাড়া ফিরোজা তার বন্ধুদের নিয়ে মায়ের দুধ খেতে পারছে না এমন শিশুদের ন্যাপি এবং গুঁড়ো দুধ কিনতে অর্থ সংগ্রহেরও চেষ্টা করছেন।
বিগত চার দশকে আফগানিস্তান অনেক নৃশংস ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে। তারপরও গত মঙ্গলবার প্রসূতি ওয়ার্ডে মা ও নবজাতকদের ওপর এমন হামলা গোটা বিশ্বকে হতবাক করেছে। সূত্র: বিবিসি