লকডাউন নিয়ে মতবিরোধে দ. আফ্রিকার সরকার ও বিজ্ঞানীরা
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২০ | ০১:৪২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
দক্ষিণ আফ্রিকায় লকডাউনের পঞ্চাশতম দিন পেরিয়ে গেছে। সোমবার ৫২তম দিনে লকডাউন আরো থাকবে কিনা এ নিয়ে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ও বিজ্ঞানীরা। লকডাউনের কারণে দেশ জুড়ে স্থবিরতা নেমে আসায় লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং অর্থনীতিতে ধস নেমেছে। তাই করোনা বিস্তার প্রতিরোধে লকডাউন কতটা কার্যকর প্রক্রিয়া তা নিয়ে কথা উঠেছে। খবর সানডে টাইমসের।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করোনাভাইরাসবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির (ম্যাক) সদস্য ড. গ্লেন্ডা গ্রে নিউজ ২৪ ডটকম নামের একটি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, লকডাউন এখন চতুর্থ পর্যায়ে চলছে। এটা হয়তো পঞ্চম স্তরে পৌঁছাবে শিগগিরই। কিন্তু আমি এই পদ্ধটির সম্পূর্ণ বিরোধিতা করছি। কারণ এটি কোনো কার্যকর বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি নয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের (এসএএমআরসি) সভাপতি এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এইচআইভি গবেষক গ্লেন্ডা গ্রে বলেন, লকডাউনের পরিবর্তে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং জনসমাবেশে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপের ব্যবস্থা করা উচিত।
গ্রে’র বক্তব্য সমর্থন পেয়েছে ম্যাক-এর কিছু সদস্যেরও। তারা বলেন, লকডাউন নিয়ে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে পরামর্শের মাত্রা সম্পর্কে একটি ‘ভুল ধারণা’ তৈরি করা হচ্ছে।
ম্যাক-এর সদস্য ও উইটস বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাবির মাধহি বলেন, সরকার এ সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়। লকডাউনের ব্যাপারে সরকার ম্যাক সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেনি।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে লকডাউন ‘ত্রুটিমুক্ত নয়’, এরকম মন্তব্য করে দারুণ সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি।
এসব মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. আনবান পিল্লাই। ড. গ্লেন্ডা গ্রে’র কথাগুলো অবাক করে দেয়ার মতো, এরকম মন্তব্য করে তিনি বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নের বিষয়টা ম্যাক-এর এখতিয়ারভুক্ত নয়। তার মতে, ড. গ্রে একজন বিখ্যাত চিকিৎসক বা সংক্রামক রোগ, প্যাডিয়াট্রিক্স এবং ভ্যাকসিনোলজিতে বিশেষজ্ঞ হতে পারেন, কিন্তু লকডাউনের প্রয়োগ কিংবা এর বাড়ানো কমানো নিয়ে মন্তব্য করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। আসলে এটা আমাদের কারো পক্ষেই সম্ভব নয়। আমরা সবাই কেবল শিখছি।
পিল্লাই বলেন, আপনি আসলে দায়িত্বশীল নন। দিনশেষে আপনি কেবল একজন পরামর্শদাতাই। দায়িত্বটা আমাদেরই নিতে হবে।
এদিকে সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৪ হাজার ৩৫৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২৬১ জন আর সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৪৭৮ জন।