জীবন বাজি রেখে ব্রিটেনে ঢুকছে ভিয়েতনামিরা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০১৯ | ১২:২০
ফ্রান্সের যে উপকূল থেকে ব্রিটেনে পাড়ি দিতে হয়, সেখান থেকে এক ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে বিবিসির লুসি উইলিয়ামসন দেখা পান ১২ জনের মতো ভিয়েতনামি পুরুষের। আগুন জ্বালিয়ে তার চারপাশে বসে চা খেতে খেতে এক 'বসের' ফোনকলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা। 'বস' নামে পরিচিত এই আফগান মানবপাচারকারী কাছের একটি পার্কিংয়ের স্থানে ব্রিটেনগামী লরিতে তাদের ঢুকিয়ে দেবেন। এই ভিয়েতনামিদের একজনের নাম ডুক। লন্ডনে আসতে তিনি দেশেই এক পাচারকারীকে ৩০ হাজার ডলার দিয়েছেন। তাকে রাশিয়া, পোল্যান্ড, জার্মানি হয়ে ফ্রান্সের এই উপকূলের কাছে আনা হয়েছে।
বিবিসিকে ডুক বলেন, ব্রিটেনে আমার কিছু ভিয়েতনামি বন্ধু আছে। যেতে পারলে তারা আমাকে কাজ জুটিয়ে দেবে।
ফেরি টার্মিনালগুলোর কাছে লরির পার্কে নিরাপত্তা নজরদারি যতটা শক্ত, এখানে ততটা নয়। ফ্রান্সে আসার পর নানাভাবে এই অবৈধ অভিবাসীদের ব্রিটেনে ঢোকানোর চেষ্টা চলতে থাকে। কেউ সফল হন, কেউ আবার মৃত্যুর মতো ট্র্যাজেডির শিকার হন- যেমন হয়েছেন বুধবার ভোরে লরির ফ্রিজের ভেতর লুকিয়ে ব্রিটেনে ঢোকার পথে ৩৯ জন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বুধবার নিহত ৩৯ জনের মধ্যে কমপক্ষে ১০ জন ভিয়েতনামের নাগরিক। ভিয়েতনামিদের সংখ্যা আরও বেশিও হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, নিহতদের মধ্যে ফাম থি ট্রা মাই নামে ২৬ বছরের এক ভিয়েতনামি তরুণীও রয়েছেন। তার ভাই বিবিসিকে বলেছেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় শেষবার তার বোন দেশে তার মায়ের কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন।
বার্তাটি ছিল এ রকম- 'বাবা ও মা, তোমাদের কাছে ক্ষমা চাই। বিদেশে আসার চেষ্টায় আমি ব্যর্থ হয়েছি। আমি মারা যাচ্ছি, নিঃশ্বাস নিতে পারছি না। তোমাদের ভালোবাসি, আমি দুঃখিত।'
ফাম থি ট্রা মাইয়ের মতো হাজার হাজার ভিয়েতনামি জীবন বাজি রেখে একটু ভালো জীবনের আশায় দালালকে বিপুল অঙ্কের টাকা দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে বের হচ্ছেন। অধিকাংশের গন্তব্য ব্রিটেন। এক হিসাবমতে, ভিয়েতনাম থেকে প্রতিবছর ১৮ হাজার নারী-পুরুষ অবৈধ উপায়ে ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দেয়।
জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, ভিয়েতনাম থেকে মানুষ পাচার করে দালালরা প্রতিবছর ৩০ কোটি ডলার আয় করে।
কেন ব্রিটেন এক নম্বর গন্তব্য: বিবিসি ভিয়েতনাম সার্ভিসের কুইন লে বলছেন, প্রধানত অর্থনৈতিক কারণেই চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রচুর অর্থ দালালকে দিয়ে হাজার হাজার ভিয়েতনামি ইউরোপের পথে পা বাড়াচ্ছে। যারা আসছে, তারা দেশে কায়িক পরিশ্রম করে জীবনযাপন করে। তাহলে কীভাবে তারা ২৫ থেকে ৩০ হাজার পাউন্ড জোগাড় করছে?
কুইন লে বলছেন, আত্মীয়-বন্ধুদের কাছ থেকে ধার-দেনা, চড়া সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে অর্থ জোগাড় করতে হয়। এর পর ব্রিটেনে পাড়ি জমাতে পারলে সেখানে তারা নেইল (নখ) পার্লার এবং চীনা ও ভিয়েতনামি রেস্তোরাঁয় কাজ করেন।
- বিষয় :
- ভিয়েতনাম