ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

'উপায় না দেখে শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান বাগদাদি'

'উপায় না দেখে শরীরে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণ ঘটান বাগদাদি'
×

২০১৪ সালে ইরাকের মসুল শহর থেকে খেলাফত ঘোষণা করেন আইএস নেতা বাগদাদি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৪৪ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৯ | ১০:৪৫

আল কায়দা নেতা ওসামা বিন লাদেনের পর বিশ্বে চরম মাত্রায় ত্রাস সৃষ্টিকারী জঙ্গি আবু বকর আল-বাগদাদি। ২০১৪ সালে তার নেতৃত্বে ইরাক-সিরিয়ার বিশাল অঞ্চল দখলের মধ্য দিয়ে উত্থান হয় দুর্ধর্ষ জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস)। সেই থেকে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, নির্যাতনের মতো বর্বরতার শিরোমণি হয়ে ওঠে বাগদাদি। অবশেষে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর আগেও অন্তত ছয়বার বিভিন্ন পক্ষ বাগদাদি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে এবারের দাবি বেশ মজবুত। ইরাক, সিরিয়া, রাশিয়া, সিরীয় কুর্দি বাহিনীও বাগদাদি বধের খবর সত্য বলে দাবি করছেন। আর শনিবার রাতে বাগদাদিকে হত্যার মিশন সম্পর্কে রোববার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন ট্রাম্প।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার সকালে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সরাসরি সম্প্রচারিত টেলিভিশন বক্তৃতায় বাগদাদির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে ট্রাম্প বলেন, বাগদাদি যে বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন, সেখানে রাতে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। প্রচণ্ড গোলাগুলির পর যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা বাড়িটি ঘিরে ফেললে বাগদাদি তার তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে একটি বদ্ধ সুড়ঙ্গে লুকানোর চেষ্টা করেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের সঙ্গে থাকা কুকুর তাকে তাড়া করে। তখন উপায় না দেখে আইএস নেতা শরীরে বাঁধা বিস্ফোরক ফাটিয়ে দেন।

ট্রাম্প তার বর্ণনায় বলেন, বিস্ফোরণে সুড়ঙ্গটি তার শরীরের ওপর ধসে পড়ে। সঙ্গে তার তিন সন্তানও নিহত হয়। বাগদাদির শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। তবে ডিএনএ পরীক্ষা করে তার পরিচিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, মৃত্যুর আগ মুহূর্তে বাগদাদি সকলকে আতঙ্কিত করে তুলতে চেয়েছিলেন।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদলিবের বারিশা গ্রামে আইএস প্রধানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। গ্রামটি তুরস্ক সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। কিন্তু এতদিন মনে করা হতো বাগদাদি লুকিয়ে আছেন সিরিয়া-ইরাক সীমান্তের কোনো অঞ্চলে। ইদলিব আইএসবিরোধী মিলিশিয়াদের দখলে রয়েছে। ইদলিব থেকে বেশ আগেই আইএস যোদ্ধাদের উৎখাত করা হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও খবর এসেছে। 

ধারণা করা হচ্ছে, ওই মিলিশিয়াদের বিরোধীরা ইদলিবে আইএস সদস্যদের ঠাঁই দিয়েছে। ট্রাম্প বলেন, বাগদাদি কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের নজরদারিতে ছিলেন। কিন্তু তার গতিবিধির কারণে দুই-তিনবার স্থগিত করতে হয় অভিযান। ফের আইএসকে সক্রিয় করে তুলতে ইদলিবে গিয়েছিলেন বাগদাদি- এমনটাই মনে করেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, অভিযানে ৮টি হেলিকপ্টার অংশ নেয়। পরে সেনারা দেওয়াল ভেঙে বাগদাদির বাড়িতে প্রবেশ করার পর বন্দুকযুদ্ধ হয়। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা নিহত হননি। তবে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত একটি কুকুর এতে আহত হয়েছে। বাগদাদির বেশ কয়েকজন অনুসারী নিহত হয়েছেন। অভিযানের দুই ঘণ্টা পরও সেনারা সেখানে অবস্থান করে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।

বাগদাদী নিহত হওয়ার ঘটনাকে ট্রাম্পের অন্যতম বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে কুর্দি মিত্রদের ফেলে রেখে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চরম সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের তদন্তও চলছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ইমেজ রক্ষায় বাগদাদি নিহতের ঘটনাটি দারুণ কাজে দিয়েছে। 

বাগদাদিকে খুঁজে বের করায় কুর্দি মিলিশিয়াদের ধন্যবাদ দিয়েছেন ট্রাম্প। এই কুর্দিদেরই তুরস্কের হামলার মুখে ফেলে সেনা সরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া ট্রাম্প রাশিয়াকে ধন্যবাদ দিয়েছেন সিরিয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার আকাশসীমা যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য। ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্ককে তিনি ধন্যবাদ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের পর্যাপ্ত সহায়তা করার জন্য।

আরও পড়ুন

×