ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

ভারতে আক্রান্ত বেড়ে ২ লাখ ৬৬ হাজার

ভারতে আক্রান্ত বেড়ে ২ লাখ ৬৬ হাজার
×

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২০ | ০১:১৯

ভারতে লকডাউন শিথিলের প্রথম দিনে করোনার রেকর্ড সংখ্যক সংক্রমণ ঘটেছে। সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ৯ হাজার ৯৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট করোনা আক্রান্ত হলেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৮ জন। মহামারি ভাইরাসটিতে একদিনে প্রাণ হারিয়েছে ২৬৬ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু ৭ হাজার ৪৬৬। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ২১৫ জন। আরোগ্য লাভের হার বর্তমানে ৪৮.৪৬ শতাংশ। এদিকে সংক্রমণের হ্রাস টানতে অভিবাসী শ্রমিকদের চিহ্নিত করে তাদের নিজেদের বাড়িঘরে ফেরত পাঠাতে রাজ্যগুলোকে দু’সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আক্রান্তের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, রাশিয়া এবং যুক্তরাজ্যের পরে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারত। খবর এনডিটিভির। 

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার সকালের ব্রিফিংয়ে জানায়, সারাদেশে এপর্যন্ত ৪৯ লাখ ১৭ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সোমবার ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৬৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ৯ হাজার ৯৮৩ জন। এটি এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা। গত সাতদিন ধরে প্রতিদিন ১০ হাজারের কাছাকাছি মিলছে আক্রান্তের সংখ্যা। 

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে ১০৯ জন মহারাষ্ট্রে, দিল্লিতে ৬২ জন, গুজরাটে ৩১ জন, তামিলনাড়ুতে ১৭ জন, হরিয়ানায় ১১ জন, পশ্চিমবঙ্গে ৯ জন, উত্তর প্রদেশে ৮ জন, রাজস্থানে ৬ জন, জম্মু এবং কাশ্মীরে ৪জন, কর্ণাটকে ৩ জন, মধ্য প্রদেশ ও পাঞ্জাবে ২ জন করে এবং বিহার ও কেরালায় একজন করে মারা গেছে। 

দেশের মধ্যে মহারাষ্ট্র সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য। এই রাজ্য মোট ৮৮ হাজারের  বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এই রাজ্যেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে। এ রাজ্যে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ হাজার ১৬৯ জন।  

আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় তামিলনাড়ু এবং দিল্লি তৃতীয়। তামিলনাড়ুতে মোট আক্রান্ত ৩৩ হাজার ২২৯ জন এবং দিল্লিতে ৩০ হাজার পেরিয়ে গেছে আক্রান্তের সংখ্যা। দিল্লিতে সোমবার ৩ হাজার ৭০০ টি নমুনা পরীক্ষা করে ১,০০৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।  

ভারতে দীর্ঘ আড়াই মাস পর সোমবার লকডাউন তুলে নেওয়ার ‘আনলক ১’ শুরু হয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক বিপর্যয় রোধে ধাপে ধাপে লকডাউন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।  এর আওতায় প্রথম ধাপে শপিংমল, রেস্তোঁরা ও মসজিদ-মন্দির চালু করা হয়েছে। তবে এরইমধ্যে বেড়ে গেছে সংক্রমণ । এতে উদ্বিগ্ন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। তাই সংক্রমণের লাগাম টানতে অভিবাসী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাতে ১৫ দিনের সময় বেধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এজন্য কোনো রাজ্য অনুরোধ করলে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শ্রমিক ট্রেন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রেলওয়েকে। 

আদালত বলেছে, যে সব শ্রমিক বাড়ি ফিরেছেন, তাদের জন্য কী কী কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তার তালিকা জমা দিতে হবে রাজ্য, কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল ও কেন্দ্রকে। একই সঙ্গে জেলা ও ব্লক স্তরে কাউন্সেলিং সেন্টার চালু করতে হবে। যেখান থেকে শ্রমিকরা জানতে পারবেন তারা কী কী স্কিমের লাভ পেতে পারেন। এছাড়া লকডাউনের নিয়ম ভাঙায় শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ, এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। 

আরও পড়ুন

×