যুক্তরাষ্ট্রে শত বছর পর ধর্ষণের দায় থেকে মুক্তি মিলল কৃষ্ণাঙ্গের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২০ | ০২:১৮ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২০ | ০৩:০৫
এক শ্বেতাঙ্গ নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা রাজ্যের ডুলুথে বর্বর কাণ্ড ঘটেছিল শত বছর আগে। প্রকাশ পেয়েছিল বর্ণবাদের ঘৃণ্য রূপ। কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই ধর্ষণের অভিযোগে তিন কৃষ্ণাঙ্গকে জনসম্মুখে ফাঁসি দিয়েছিল উগ্র-শ্বেতাঙ্গরা। ৩০ বছরের জেল হয়েছিল আরেক কৃষ্ণাঙ্গ ম্যাক্স ম্যাসনের। শত বছর পর স্থানীয় সময় শুক্রবার মিনেসোটা রাজ্য কর্তৃপক্ষ ম্যাসনের ওপর থেকে অভিযোগ তুলে নিয়ে তাকে নিরাপরাধ ঘোষণা করেছে।
১৯৪২ সালে ম্যাসন মারা যান। এর আগ পর্যন্ত বরাবরই তিনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে গেছেন। তিনিই মিনেসোটার প্রথম ব্যক্তি যিনি মরণোত্তর ক্ষমা পেলেন। এমন এক সময় ম্যাসনকে ক্ষমা করা হলো যখন বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ২৫ মে মিনেসোটা রাজ্যের মিনিয়াপোলিসে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ পুলিশের নির্যাতনে নিহত হন। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পুলিশি নিপীড়ন ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, ২৫ মের আগেই ম্যাসনকে ক্ষমা করে দিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন জানানো হয়। চলমান বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভের কারণে ম্যাসনের মরণোত্তর দায় মুক্তি দ্রুত সম্ভব হয়েছে।
মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কেইথ এলিসন টুইটারে লিখেছেন, ‘শত বছর পর ন্যায়বিচার সম্পন্ন হলো।’
১৯২০ সালের ১৪ জুন মিনেসোটার ডুলুথ শহরে আইরিন তুসকেন নামে এক শ্বেতাঙ্গ নারী তার এক পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে সার্কাস দেখতে গিয়েছিলেন। পরদিন ওই পুরুষ বন্ধুটি দাবি করেন, আইরিন ও তার ওপর সার্কাসের কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ সদস্য হামলা করেছেন। তারা আইরিনকে ধর্ষণও করেছেন।
ঘটনার পরদিনই ম্যাসনসহ বেশ কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু আইরিন কিংবা তার বন্ধু কাউকেই তাদের ওপর হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করতে পারেননি। চিকিৎসকর প্রতিবেদনেও আইরিনকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
ম্যাসনসহ সবাই ছাড়া পান এবং সার্কাস দলে যোগ দিয়ে ডুলুথ ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিছুক্ষণ পর পুলিশ ম্যাসনসহ সার্কাস দলের কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গকে ফের আটক করে।
সেই রাতে (১৫ জুন, ১৯২০) একদল উগ্র শ্বেতাঙ্গ থানায় হামলা করে। তারা সার্কাস দলের তিন কৃষ্ণাঙ্গকে টেনে হিঁছড়ে রাস্তায় বের করে নিয়ে আসে। পরে রাস্তার মোড়ে জনম্মুখে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। সেই নৃশংস ঘটনার স্মরণে ১৯৬৫ সালে বব ডিলান লিখেছিলেন তার জগদ্বিখ্যাত গান ‘ডেসোলেশন রো’।
২০০৩ সালে মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ ওই তিন কৃষ্ণাঙ্গের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়। ফাঁসি দেওয়ার স্থানে তাদের স্মরণে একটি ভাস্কর্য তৈরি করা হয়।
ভাগ্যবান ছিলেন বলে ওই তিন কৃষ্ণাঙ্গের পরিণতি ম্যাসনের হয়নি। তবে তার ৩০ বছরের জেল হয়। ধর্ষণের কোনো প্রমাণ তার বিরুদ্ধে ছিল না। কিন্তু আইরিন এবং ম্যাসন একই সময়ে যৌনরোগ গনেরিয়ায় আক্রান্ত হন। শুধুমাত্র এর ওপর ভিত্তি করে ম্যাসনকে দোষী সাব্যস্ত করে জেলে ঢোকানো হয়েছিল।
আইনজীবী ম্যাসন ফোবর্স ১৯২৩ সালে ক্ষমার দরখাস্তে লিখেছিলেন, ‘কৃষ্ণাঙ্গ না হয়ে ম্যাক্স ম্যাসন যদি শ্বেতাঙ্গ হতেন তাহলে কি তাকে এভাবে সাজা ভোগ করতে হতো?’