ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের দখলে থাকা ভূমি নেপালের নতুন মানচিত্রে, ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি

ভারতের দখলে থাকা ভূমি নেপালের নতুন মানচিত্রে, ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২০ | ০৩:৫৩

ভারতের দখলে থাকা ভূখণ্ড নিজেদের দাবি করে নতুন মানচিত্র সংশোধনী বিল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে পাস করেছে নেপাল। শনিবার সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়। তবে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সীমান্ত বিরোধ আরও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পৌঁছল। খবর এনডিটিভি, আনন্দবাজার ও আলজাজিরার।

ভারতের ‘দখলে থাকা’ কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চলকে বরাবরই নিজেদের দাবি করে আসছে নেপাল। গত মে মাসে অঞ্চল তিনটিকে ফেরানোর দাবি জানিয়ে পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পেশ করে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। তারই পথ ধরে শনিবার নতুন মানচিত্র সংশোধনী বিল উঠে পার্লামেন্টের নিন্মকক্ষ প্রতিনিধি সভায়।

এ নিয়ে দিনভর আলোচনার পর বিকেলে বিলটি পাস করে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সরকার। নিম্নকক্ষের স্পিকার অগ্নিপ্রসাদ সপকোতা জানান, ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভায় উপস্থিত ২৫৮ জন সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে বিলে অনুমোদন দিয়েছেন।

এরপর বিলটি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ জাতীয় পরিষদে যাবে। সেখানেও বিলটি সহজেই পাস হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এরপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি পোক্ত করে নেবে নেপাল।

নতুন মানচিত্রে লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ গিরিপথ এবং কালাপানি অঞ্চলকে নেপাল নিজের অংশ দেখালেও ওই অঞ্চল দিয়ে সম্প্রতি চীন সীমান্ত পর্যন্ত পাকা সড়ক তৈরি করেছে ভারত। সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রে এ অঞ্চল ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নেপালের নতুন মানচিত্র অনুমোদনের খবরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। দিল্লির দাবি, ভারতের প্রায় ৪০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকাকে নতুন মানচিত্রে নিজেদের বলে দাবি করেছে নেপাল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেপাল সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, কাঠমান্ডুর দাবির কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।

বিল পাসের প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেন, ‘ভারতীয় ভূখণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে নেপালের পরিবর্তিত মানচিত্র গ্রহণযোগ্য নয়। নেপালের সঙ্গে সীমান্ত সমঝোতা এই ঘটনায় বিঘ্নিত হবে।’

চীনের প্ররোচণাতেই নেপাল এমন পদক্ষেপ নিয়েছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানো উচিত নেপালের। আশা রাখবো সীমান্ত ইস্যু সমাধানে নেপালের নেতৃত্ব কূটনৈতিক স্তরে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করবে।’

মূলত ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী কালি নদীর উত্তর-পূর্ব এলাকা বিতর্কিত। ভারতের দাবি- ওই এলাকার লিপুলেখ পাস উত্তরাখণ্ডের। পাশাপাশি লিম্পিয়াধুরা আর কালাপানি এলাকা ১৯৬২ সাল থেকে ভারতের সীমানার অংশ। এই এলাকাগুলোই নিজের বলে দাবি করছে নেপাল। এজন্য গত মে মাসে কাঠমান্ডু ভারতকে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বৈঠকের আহ্বান জানালেও তাতে কান দেয়নি দিল্লি।

আরও পড়ুন

×