ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সেনাবাহিনী, বললেন উনের বোন

দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে সেনাবাহিনী, বললেন উনের বোন
×

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২০ | ০২:৩০ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২০ | ০৩:৫৫

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের এটাকেই সঠিক সময় বলে মনে করছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের ছোট বোন কিম ইয়ো জং। উত্তর কোরিয়ার পরের পদক্ষেপ হবে সামরিক, যা শিগগিরই দেশটির সেনাবাহিনী শুরু করবে বলেও জানান তিনি। শনিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ-র সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, সম্পর্ক গড়ার চেষ্টায় বারবার হতাশ হওয়ার চেয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের স্বরূপ উন্মোচন করে দেওয়াই ভালো। তারা আসলে ভালো কিছু চায় না।

রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ক্ষমতাধর বলে বিবেচিত কিমের ছোট বোন বলেন, আবর্জনাকে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে। আমাদের দল এবং রাষ্ট্র থেকে পাওয়া ক্ষমতাবলে আমি সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি শত্রুর সঙ্গে যথোচিত ব্যবহারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু করার জন্য। হ্যাঁ, এটা অবশ্যই সামরিক পদক্ষেপ।

দ্বিখণ্ডিত কোরিয়ার নেতাদের মধ্যে বৈঠকের ২০তম বার্ষিকীতে এ ধরনের কথা বললেন কিম ইয়ো জং। ২০০০ সালের ১৩ জুন বিভক্ত দুই কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতাদের মধ্যে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার অষ্টম প্রেসিডেন্ট কিম দায়ে জাং ছিলেন সে বৈঠকের উদ্যোক্তা। ওই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই কোরিয়ার মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানা প্রকল্পের পরিকল্পনা শুরু হয় এবং দেশ দুটোর মধ্যে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা লৌহযবনিকার অবসান ঘটতে থাকে। কিম দায়ে জাংকে এ জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও দেওয়া হয়েছিল।

চলতি সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া দক্ষিণের সঙ্গে দুই বছর আগে শুরু হওয়া হটলাইনসহ সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে যাওয়া ‘রাষ্ট্রদ্রোহীদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছে দক্ষিণ কোরিয়া এমন অভিযোগ তুলেই এমন পদক্ষেপ নেয় উত্তর। উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বকে বেশ কিছুকাল ধরে মোটামুটি সন্তুষ্ট রেখে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়া৷ যুক্তরাষ্ট্রসহ বাকি বিশ্বের সঙ্গে পিয়ং ইয়ংয়ের সংঘাতের মাঝেও সিউলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি৷ কিন্তু এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সবরকম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দিয়ে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে সব হটলাইন বন্ধ করার সিদ্ধান্তের নিয়েছে পিয়ং ইয়ং৷  এর আওতায় মঙ্গলবার দুপুর থেকে দুই কোরিয়ার মৈত্রী দপ্তর, সামরিক বাহিনী ও প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মধ্যে হটলাইন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে৷ সোমবার থেকেই নিয়মিত রুটিন যোগাযোগে ব্যাঘাত শুরু হয়েছে৷

ওদিকে দক্ষিণ কোরিয়া গত সপ্তাহে জানিয়েছে, তারা উত্তরের  পলাতকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। পলাতকদের কাছ থেকে প্রতিবছর বেলুনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ায় কিমের বিরুদ্ধে যেসব বার্তা পাঠানো হয়, দক্ষিণ কোরিয়া এবার তা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এর পরও উত্তর কোরিয়ার এ্ চরম উক্তিকে দেশটির তরফ থেকে রাজনৈতিক হতাশা ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অন্তত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা বো সিউং চান সেরকমই বলেছেন।

আরও পড়ুন

×