জম্মু ও কাশ্মীরে উন্নয়নের নবযুগ শুরু হবে: মোদি
সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন নরেন্দ্র মোদি-এনডিটিভি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০১৯ | ০০:০৭
নতুন পথচলা শুরু করলো ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য। কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যটির বিশেষ মর্যাদাকে রদ করার প্রায় তিন মাস পর বুধবার মধ্যরাত থেকে রাজ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত হয়েছে।
এমনটাই আশা করছেন এ বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, জম্মু ও কাশ্মীরে এবার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। উপত্যকায় উন্নয়নের নবযুগ শুরু হবে। খবর এনডিটিভির।
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৪৪ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গুজরাটে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
তিনি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ আজ থেকে একটি নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে।
এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের পরে অবিভক্ত জম্মু ও কাশ্মীরের উপর আরোপ করা রাষ্ট্রপতি শাসন বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিজ্ঞপ্তিতে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে ‘জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’ হিসেবে প্রতিস্থাপন করেছে এবং ‘স্থায়ী বাসিন্দা বা বংশগত অধিকারের বিষয়’ বাদ দেওয়ার ঘোষণা করেছে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে, জম্মু ও কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগসহ বেশ কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
জম্মু ও কাশ্মীর দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের রাজ্যের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯।
পুদুচেরির মতোই জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা থাকবে, কিন্তু চণ্ডীগড়ের মতো লাদাখে কোনো বিধানসভা থাকবে না।
গিরিশ চন্দ্র মুর্মুর শপথ গ্রহণের পর জম্মু ও কাশ্মীর তার প্রথম লেফটেন্যান্ট গভর্নর পাবে। এদিকে প্রাক্তন প্রতিরক্ষা সচিব রাধাকৃষ্ণ মাথুর লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
এখন থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ থাকবে কেন্দ্রের হাতে। লাদাখও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকবে যা পরিচালনা করবেন সেখানকার লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
কেন্দ্রীয় সরকার গত ৫ আগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করে এটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার ঘোষণা করে।
যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে কেন্দ্র রাজ্যটিতে ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করে। গ্রেফতার করা হয় সেখানকার রাজনীতিবিদদেরও।
পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়া ছাড়াও সেখানে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা। বন্ধ করে দেওয়া হয় ফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগ। পরে ধীরে ধীরে শিথিল করা হয় বিধিনিষেধ, চালু হয় ফোন পরিষেবাও।