ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইয়ে এক কাশ্মীরি শিল্পী

ঐতিহ্য রক্ষার লড়াইয়ে এক কাশ্মীরি শিল্পী
×

নিপুণ হাতে কাশ্মীরের যন্ত্রসংগীতের প্রতীক বাদ্যযন্ত্র সন্তুর তৈরি করছেন এ অঞ্চলের শেষ কারিগর গোলাম মোহাম্মদ জাজ। ছবি: বিবিসি

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৫ | ১০:৩৯

ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীতে সন্তুর স্বতন্ত্র বাদ্যযন্ত্র। হৃদয়কে শান্ত করতে পারার এক অদ্ভুত শক্তি আছে এর। পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা সন্তুর বাদক হিসেবে বিশ্বজুড়ে খ্যাত ছিলেন। ইলেকট্রিক বাদ্যযন্ত্র সহজলভ্য হওয়ায় এর কদর দিন দিন কমছে। এরই প্রভাব পড়েছে হাতে যারা সন্তুর তৈরি করেন, সেই কারিগরদের ওপর। ভারতের কাশ্মীরের শ্রীনগরে এক কারিগরকে পাওয়া গেছে, যিনি এখনও হাতে সন্তুর বানান।

শ্রীনগরের শান্ত সরু গলিপথে একটি ছোট দোকান। ভেতরে আবছা আলো। এরই মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় শিল্পের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে বসে আছেন গোলাম মোহাম্মদ জাজ। তাঁকে এই অঞ্চলে হাতে সন্তুর তৈরির শেষ কারিগর বলে মনে করা হয়।

সন্তুর ট্র্যাপিজয়েড আকৃতির তারযুক্ত বাদ্যযন্ত্র। ডুলসিমারের মতো। হাতুড়ি দিয়ে বাজানো হয়। স্ফটিকের মতো ঘণ্টাসদৃশ সুরের জন্য পরিচিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কাশ্মীরের যন্ত্রসংগীতের প্রতীক হয়ে আছে এই বাদ্য।

গোলাম মোহাম্মদের বংশ সাত শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কাশ্মীরে বাদ্যযন্ত্র তৈরি করছে। তারা সন্তুর ছাড়াও রাবাব, সারেঙ্গি এবং সেতার তৈরি করত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাতে তৈরি বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা কমে গেছে। এর স্থান দখল করেছে যন্ত্রে তৈরি বাদ্য। এগুলো সস্তা এবং দ্রুত তৈরি করা যায়। মানুষের রুচিও পাল্টে গেছে।

ভারতের সংগীত শিক্ষক শাবির আহমদ মির বলেন, ‘হিপ হপ, র‍্যাপ এবং ইলেকট্রনিক সংগীত এখন কাশ্মীরের সাউন্ডস্কেপকে প্রভাবিত করছে। তরুণ প্রজন্ম আর ঐতিহ্যবাহী সংগীতের গভীরতায় মন দিতে পারছে না। ফলে সন্তুরের চাহিদা কমে গেছে। কারিগরদের কোনো উত্তরসূরি তৈরি হচ্ছে না।’

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের প্রতিবেদক বিসমা ফারুক ভাট সম্প্রতি গিয়েছিলেন গোলাম মোহাম্মদের দোকানে। এটি শত বছরের পুরোনো। কাঠ এবং লোহার যন্ত্রপাতির পাশে বসে ছিলেন গোলাম মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘কেউ বাকি নেই (শিল্পটি চালিয়ে যাওয়ার জন্য)। আমিই শেষ।’

তিনি জানান, আগে এমন ছিল না। বছরের পর বছর ধরে বিখ্যাত সুফি এবং লোকশিল্পীরা তাঁর হাতে তৈরি সন্তুর বাজিয়েছেন। তাঁর দোকানে একটি ছবিতে দেখা যায় পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা এবং ভজন সোপরি তাঁর বাদ্যযন্ত্র নিয়ে পরিবেশন করছেন। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, গোলাম মোহাম্মদ ২০২২ সালে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে পদ্মশ্রী পুরস্কার গ্রহণ করছেন।

সংগীত শিক্ষক শাবির আহমদ মির জানান, সুফি ঘরানার অংশ হিসেবে সন্তুরের কদর ছিল। পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার পরে এতে আরও তার যুক্ত করে বাজানোর নতুন কৌশল প্রবর্তন করা হয়। কাশ্মীরি বংশোদ্ভূত ভজন সোপরি এটিকে আরও গভীর করেছেন। সুফি অভিব্যক্তি দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। এ কারণে তাঁকে সন্তুর সন্ন্যাসী বলা হয়।

গোলাম মোহাম্মদ বলেন, ‘পূর্বপুরুষরা আমাকে বাদ্যযন্ত্র তৈরি করতে শিখিয়েছেন। বুঝতে শিখিয়েছেন– কাঠকে, বাতাসকে এবং যে হাত এটি বাজাবে তাঁকে। আমিও এমন কাউকে খুঁজছি, যাকে এটা শেখাতে পারি।’

আরও পড়ুন

×