করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৪ দিনের মধ্যে মা ও ৪ ছেলের মৃত্যু
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২০ | ০৩:১১
করোনায় আক্রান্ত হয়ে গোটা বিশ্বে প্রতিদিনেই মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটি অনেক প্রিয়জনের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে । সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক মা ও তার চার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা অনেককে শোকাহত করে তুলেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের ঝাড়খান্ড রাজ্যের ধানবাদে। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী,ধানবাদের এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারের ৮৯ বছর বয়সী এক নারী ও তার ৪ ছেলে ১৪ দিনের ব্যবধানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ওই নারীর পঞ্চম পুত্রও একই সময়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
মৃত ওই নারীর সাত সন্তানের মধ্যে এখন বেঁচে আছেন মাত্র দুইজন। তাদের মধ্যে ছোট ছেলেটি দিল্লিতে আর একমাত্র মেয়ে কলকাতায় বসবাস করছেন। ওই পরিবারের এক স্বজন জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা এক পরিবারের এতজন সদস্য এমনভাবে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবেন এটা কল্পনাই করা যায় না। হয়তো মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তারা সবাই আবার একত্রিত হবেন বলে তিনি মত দেন।
গত সোমবার পরিবারটির শেষ একজনের মৃত্যু হয়। মৃত ওই নারীর ৭১ বছর বয়সী ছেলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সের (রিমস) আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। পরে বাথরুমে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
জানা গেছে, বৃদ্ধা ওই নারী অনেক বছর ধরে দিল্লিতে তার এক ছেলের কাছে বসবাস করছিলেন। বহু বছর পর ধানবাদে পারিবারিক এক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার গত ২৭ জুন তিনি ধানবাদে আসেন।
তবে বিয়ের অনুষ্ঠানের আগের সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে বোকারো জেলার পাশের চাসের অঞ্চলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৪ জুলাই তিনি মারা যান । করোনা পজিটিভ শনাক্ত হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হিন্দু রীতি অনুযায়ী তার শেষকৃত্য করা হয়।
এরপর ৮ জুলাই, ওই নারীর ৬৯ বছর বয়সী ছেলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ধানবাদের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। ১১ জুলাই তিনি মারা যান। এর কয়েক ঘন্টা পরে বুকে ব্যথার অনুভব করায় মৃত ব্যক্তির ৬৫ বছর বয়সী ভাইকে কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র থেকে ধানবাদের পাটলিপুত্রা মেডিকেল স্কুল ও হাসপাতালে (পিএমসিএইচ) ভর্তি করা হয়। ১২ জুলাই ভোরের দিকে মারা যান। মৃত্যুর একদিন পর তার করোনা শনাক্ত হয়। একই রাতে, মৃত ওই নারীর ৭২ বছর বয়সী ছেলে করোনা পজিটিভ হয়ে একই হাসপাতালে মারা যান।
১৩ জুলাই নগরের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মহামারি আইন অনুসারে, ওই তিন ভাইয়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করা হয়। কারণ স্থানীয়দের আশঙ্কা ছিল, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিলে আশেপাশের এলাকায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে।
এরপর ১৯ জুলাই, ভদ্রমহিলার ৬০ বছরের ছেলে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যান্সারে ভূগছিলেন তিনি টাটা মেইন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যায় ওই নারীর ৭১ বছরের ছেলে হাসপাতালের বাথরুমে মারা যান।