চীনে মাস্ক কারখানায় কাজে বাধ্য করা হচ্ছে উইঘুর মুসলিমদের
ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২০ | ০৫:০১ | আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২০ | ০৫:১১
করোনায় নিষ্পেষিত হলেও চীনাদের ব্যবসায় বুদ্ধির ঘাটতি নেই। বিশ্বব্যাপী এখন মাস্ক ব্যবহার চলছে। করোনাভাইরাসের কারণে কোনো কোনো দেশে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে এখন মাস্কের বিশাল চাহিদা। এই চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে চীনা কোম্পানিগেুলো ব্যাপকভাবে মাস্ক ও সুরক্ষা সামগ্রী তৈরি করছে, যেগুলো নিমিষেই রপ্তানি হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। তবে এই মানবিক সঙ্কটকালে চীনের এই ব্যবসার পেছনেও উঠেছে অভিযোগ। তারা মাস্ক কারখানার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে উইঘুর মুসলিমদের বাধ্য করছে, যা আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক তদন্তে উঠে এসেছে, সরকারের সহায়তায় সেখানে উইগুরদের মাস্ক তৈরির কারখানায় ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করানো হচ্ছে। বিভিন্ন বন্দি শিবির আর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে তাদের শ্রমিক হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে।
উত্তর-পশ্চিম চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলমানের বাস। তারা জনসংখ্যায় বিপুল হলেও চীনের তুলনায় সংখ্যালঘু। এই মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চীনের অত্যাচার নিপীড়নের অভিযোগ বহুদিনের। বহু সংখ্যক উইগুর মুসলিমকে বন্দি শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের মুসলিম সংস্কৃতি থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
নিউ ইয়র্ক টাইম বলছে, উইঘুরদের মাস্ক কারখানায় কাজ করতে বাধ্য করার বিষয়টি সরকারেরই একটি প্রকল্প। রপ্তানিতে যেন কোনো ছেদ না পড়ে সে কারণেই সরকার এ কাজ করছে।
চীনের স্বাস্থ্য পণ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, করোনা মহামারির আগে চীনের মাত্র চারটি প্রতিষ্ঠান মাস্ক ও পিপিই উৎপাদনের কাজ করত। আর করোনা সংসক্রমণের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ তে। এগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ১৭টি প্রতিষ্ঠান সরকারের ওই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত।
চীনের গণমাধ্যমগুলোতেও এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে তারা বলছে, দারিদ্র্য কমাতেই সরকার এ ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে।