ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বাবা কোথায় আছেন, জানতে চান তালিয়া

বাবা কোথায় আছেন, জানতে চান তালিয়া
×

দুই মেয়ের সঙ্গে ইদ্রিস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২০ | ১০:৪২

তালিয়া যখন ছোট, তখন তার মায়ের সাথে বাবার বিচ্ছেদ হয়। বাবাই একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে তাকে বড় করে তোলেন। মেয়ের রান্না থেকে শুরু করে সব বিষয়ে নজর ছিল তার। ২০ বছর বয়সী তালিয়ার ভাষ্য, আমার বাবা সত্যি একজন ভালো বাবা ছিলেন। জীবনভর ভেবেছি বাবাকে যেন এই হারাতে বসেছি।  

ভয়ই যেন সত্যি হয়ে ধরা দিল এই তরুণীর কাছে। ইসলামাবাদ থেকে গত নভেম্বরে পাকিস্তানের সুপরিচিত মানবাধিকার কর্মী ইদ্রিস খতাককে দিনে দুপুরে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার সাত মাস পার হয়ে গেলেও বাবাকে কারা কেথাও এবং কেন নিয়ে গেছে তা জানেন না তালিয়া।

বিবিসি জানায়, এক পর্যায়ে অবশ্য ইদ্রিসকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তাদের ভাষ্য,  গোপনীয়তা আইনেও আওতায় তাকে অভিযু্ক্ত করা হয়েছে।

তালিয়ার দুশ্চিন্তা বাড়ছেই। তার বাবা এখন কোথায় আছেন, কি অবস্থায় আছেন এসব নিয়ে তার ভাবনার শেষ নেই। বাবা নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি কেন ট্রেন ভ্রমণে বের হয়েছিলেন তা নিয়ে তার এখন অপরাধ বোধ হয়।

তালিয়া বলেন, আমার এখন অপরাধী লাগে নিজেকে। প্রতিদিনেই এটা নিয়ে ভাবি। যদি বাবার সাথে যেতাম সেদিন; তাহলে হয়তো তার সাথেই থাকতাম। বাবার নিখোঁজের কয়েকদিন পর একটি ম্যাসেজ আসে তালিয়ার কাছে। ‘আমি দুঃখিত, তোমার বাবা অপহৃত হয়েছেন’- লেখা পেয়ে ইসলামাবাদে ফিরে আসেন তালিয়া।

ইদ্রিসের জীবন রক্ষার জন্য কাউকে তার নিখোঁজের খবর জানায়নি পরিবার। তবে কীভাবে যেন সংবাদ মাধ্যমে তার ছবিসহ সে খবর ঠিকই প্রকাশিত হয়ে যায়।

খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে ইদ্রিসকে তার গাড়ি থেকে বেসামরিক পোশাক পরে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে নিয়ে যায়। তার চালককেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তবে দুদিন পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। চালক পুলিশকে একটি বিবৃতি দিয়ে বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাদের মাথার ওপরে ব্যাগ রেখে তাদের আলাদা গাড়িতে তুলে দেয়।

এ ঘটনার দুইদিন পর এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ইদ্রিসের ল্যাপটপ, হার্ড ড্রাইভ নিযে বাড়ি পৌঁছে দেন। এতেই তার পরিবারের সমস্ত ছবি ছিল। এরপর থেকেই আর তার কোনও খবর নেই। প্রতিদিন বাবাকে ওষুধ খেতে হতো; এখন তার শারীরিক অবস্থা কি তা নিয়ে সংশয়য়ে তালিয়া ও তার বোন সুমাইয়ার

ইদ্রিসের ভাই তার নিখোঁজের ঘটনায় পুলিশে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিতে হাইকোর্টে একটি আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।

তালিয়া বলেন, আমি সবসময়ই ভাবি, বাবা কী করবেন? এবং আমি জানি তিনি চুপচাপ থাকবেন না। যদি আমাদের কেউ থাকে তবে তিনি কথা বলতেন।

ইদ্রিসের পরিবারের দাবি, তাকে কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা তারা জানেন না। তিনি যে সরকারের সমালোচনা করেন এমনও না।

পাকিস্তানের স্বাধীন মানবাধিকার কমিশনের (এইচআরসিপি)তথ্যমতে, পাকিস্তানের প্রায় ২১শ’ রাজনৈতিক সমালোচক ও মানবাধিকারকর্মী এই মুহূর্তে নিখোঁজ রয়েছেন। অবশ্য প্রকৃত নিখোঁজের সংখ্যা আরও বেশি।


আরও পড়ুন

×