ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ডিজিটাল আইডি

যুক্তরাজ্যে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ডিজিটাল আইডি
×

ছবি: বিবিসি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৯:৩৯

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে যুক্তরাজ্য সরকার বাধ্যতামূলক ডিজিটাল আইডি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ পরিকল্পনা প্রকাশ করে জানান, এর মাধ্যমে অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিরা আর কাজের সুযোগ পাবেন না। সরকারের দাবি, কাজের সুযোগ বন্ধ হলেই অবৈধ অভিবাসনও কমে যাবে।

ডিজিটাল আইডিতে নাগরিক ও বাসিন্দাদের নাম, জন্ম তারিখ, ছবি, জাতীয়তা ও বসবাসের তথ্য থাকবে। এটি মোবাইলে সংরক্ষিত থাকবে এবং সাধারণ চলাফেরায় দেখাতে হবে না। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহার করতে হবে। সরকার বলছে, এই আইডির মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স, শিশু ভাতা, কর রেকর্ডসহ নানা সেবা আরও সহজে পাওয়া যাবে।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, ‘ডিজিটাল আইডি যুক্তরাজ্যের জন্য বিশাল সুযোগ। এটি সীমান্তকে আরও নিরাপদ করবে এবং নাগরিকদের জীবন সহজ করবে।’

তবে সরকারের এই ঘোষণার পরপরই সমালোচনার ঝড় উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক একে ‘হতাশার নাটক’ আখ্যা দিয়ে বাধ্যতামূলক আইডির বিরোধিতা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর দল এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছেন, ডিজিটাল আইডির সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নাগরিকরা প্রতিদিন ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বাধ্য হবে। রিফর্ম ইউকে পার্টি একে ‘প্রতারণামূলক কৌশল’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন রোধে এটি মোটেই কার্যকর কোনো পদ্ধতি নয়।

জাতীয় আইডি কার্ডের বিরোধিতা যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিতে আইডি কার্ড বাতিল করা হয়েছিল। ২০০০-এর দশকে টনি ব্লেয়ারের সরকারও এমন পরিকল্পনা করেছিল, তবে তীব্র বিরোধিতার মুখে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এবারও বিতর্কের ঝড় উঠলেও, সাম্প্রতিক জরিপে জনমতের একটি বড় অংশ এ পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। যদিও ইতোমধ্যেই প্রায় পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ একটি অনলাইন পিটিশনে বাধ্যতামূলক আইডির বিপক্ষে স্বাক্ষর করেছে। স্টারমারের লেবার সরকার মনে করছে, জনমতের চাপ এবং অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে পপুলিস্ট রাজনীতির উত্থানের কারণে এবার ডিজিটাল আইডি বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন

×