প্রথম সফরে পুয়ের্তো রিকোতে জুমার নামাজ আদায় মামদানির
যুক্তরাষ্ট্রের অধীন ক্যারিবিয়ান দ্বীপ পুয়ের্তো রিকোর রাজধানী সান জুয়ানের একটি মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেন নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। নামাজ শেষে তাঁকে মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করতেও দেখা গেছে- এএফপি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১০:২০ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:০৮
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অধীন ক্যারিবিয়ান দ্বীপ পুয়ের্তো রিকোতে জুমার নামাজ আদায় করেছেন। তিনি রাজধানী সান জুয়ানের একটি মসজিদে গিয়ে মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজে অংশ নেন। মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিরা তাঁকে উচ্ছ্বাসের সঙ্গে স্বাগত জানান।
খুতবার পর ৩৪ বছর বয়সী এই নেতা সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে তাঁকে মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করতেও দেখা গেছে।
জোহরান মামদানি মাত্র দুই দিন আগে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পান। তিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো ও রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনে দুই মিলিয়নেরও বেশি ভোট পড়ে, যা শহরের ইতিহাসে রেকর্ড।
বৃহস্পতিবার তিনি পুয়ের্তো রিকো সফরে যান বার্ষিক ‘সোমোস কনফারেন্স’-এ অংশ নিতে। সান জুয়ানে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রতি বছর নিউইয়র্কের রাজনীতিক, নীতিনির্ধারক ও লবিস্টরা একত্রিত হন। সম্মেলনে বিভিন্ন কর্মশালা ও আলোচনার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিকভাবে মতবিনিময়ের সুযোগও থাকে।
নির্বাচনের পর এটি জোহরান মামদানির প্রথম বড় রাজনৈতিক সফর। সম্মেলনে তিনি তাঁর প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই সফরে তিনি তাঁর একটি টিম নিয়ে অংশ নিচ্ছেন এবং ইতোমধ্যে সিটি হলে প্রশাসন গঠনের জন্য একটি ট্রানজিশন টিম গঠন করেছেন।
সম্মেলনে তিনি নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমসের আয়োজিত এক সংবর্ধনায়ও যোগ দেন। লেটিটিয়া জেমস ছিলেন মামদানির নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম প্রধান সমর্থক।
ট্রাম্পের নজর এবার নিউইয়র্কের নিয়ন্ত্রণ
নিউইয়র্ক নগরের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানির কাছে তাঁর সমর্থিত প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমোর পরাজয়কে যেন মেনে নিতে পারছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই তিনি এবার নিউইয়র্ক রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া। এ কারণেই কিনা তাঁর ঘনিষ্ঠ রিপাবলিকান কংগ্রেস ওম্যান (প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য) এলিস স্টেফানিক নিউইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর পদে লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন।
২০২৬ সালের নভেম্বরে এই রাজ্যে গভর্নর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান ডেমোক্রেটিক দলীয় গভর্নর ক্যাথি হচুল।
নিজের নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দিয়ে স্টেফানিক সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) ক্যাথি হচুলকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বাজে গভর্নর’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হচুলের ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণে নিউইয়র্ক বর্তমানে ‘দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজ্যে’ পরিণত হয়েছে।
৪১ বছর বয়সী এলিস স্টেফানিক ২০১৪ সাল থেকে নিউইয়র্কের ২১তম কংগ্রেসনাল আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম অভিশংসনের সময় স্টেফানিক তাঁর অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে আবির্ভূত হন। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের।
