পুরস্কার
জটিল জীবনালেখ্য রচনায় বুকার জয়
বুকারজয়ী উপন্যাস হাতে লেখক ডেভিড সলয় -সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৩৭ | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২৫ | ০৯:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক ডেভিড সলয় তাঁর উপন্যাস ‘ফ্লেশ’-এর জন্য ২০২৫ সালের বুকার প্রাইজ জিতেছেন। সলয় তাঁর ষষ্ঠ এ উপন্যাসে ইস্তভান নামে এক ব্যক্তির জীবন, তার যৌবন থেকে মধ্যবয়স পর্যন্ত চিত্রিত করেছেন। এ প্রসঙ্গে ১৯৯৩ সালে বুকার জেতা বিচারক প্যানেলের চেয়ারম্যান রডি ডয়েল বলেন, তিনি এ রকম কিছু আগে কখনও পড়েননি। এটি অনেক দিক থেকেই একটি অন্ধকার বই। তবে পড়াটা আনন্দের।
ইংরেজি ‘ফ্লেশ’ শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ ‘মাংস’। উপন্যাস ‘ফ্লেশ’ একটি মর্মান্তিক ঘটনার মাধ্যমে শুরু হয়। কিশোর ইস্তভান তখন হাঙ্গেরিতে তার মায়ের সঙ্গে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে থাকত। লেখক সলয় সেখান থেকেই প্রধান চরিত্র ইস্তভানের জীবনের বৈচিত্র্যময় ধাপ তুলে ধরতে থাকেন। লন্ডনে পৌঁছার আগে সে কিছুদিন সামরিক বাহিনীতে কাজ করে। লন্ডনে গিয়ে অতিধনীদের জন্য কাজ করতে থাকে। তীক্ষ্ণ ভাষার গদ্যে লেখা উপন্যাসটি কার্যত এক ইউরোপীয় ব্যক্তির পুরুষত্ব, শ্রেণি, অভিবাসন, মানসিক আঘাত, যৌনতা ও ক্ষমতা অন্বেষণকে তুলে ধরেছে।
স্থানীয় সময় গত সোমবার সন্ধ্যায় লন্ডনের ওল্ড বিলিংসগেটে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সলয়কে ৫০ হাজার পাউন্ডের পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৬ সালে তাঁর উপন্যাস ‘অল দ্যাট ম্যান ইজ’-এর জন্য তাঁকে এর আগে এ পুরস্কারের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। বিচারক প্যানেলের চেয়ারম্যান রডি জানান, সলয়কে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত ‘সর্বসম্মত’ ছিল। এ বছরের প্যানেলে তাঁর সঙ্গে আরও ছিলেন অভিনেতা সারা জেসিকা পার্কার, লেখক ক্রিস পাওয়ার, আয়েবামি আদেবায়ে ও কিলি রিড।
রডি বলেন, উপন্যাসটি এক শ্রমজীবী মানুষের বৃত্তান্ত তুলে ধরে। সাধারণত আমরা এদিকে তাকাই না। এটি আমাদের একটি নির্দিষ্ট ধরনের মানুষকে উপস্থাপন করে এবং মুখের অন্তরালে তাকানোর জন্য আহ্বান জানায়। দ্য গার্ডিয়ানে বইটির এক পর্যালোচনায় বিশ্লেষক কেইরান গডার্ড লেখেন, সলয় যে উপন্যাসটি লিখেছেন, সেখানে বেঁচে থাকার অসাড় অদ্ভুততা সম্পর্কে একটি বড় প্রশ্ন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর শৈলীর কথা বললে– নাম ‘মাংস’ হলেও এটি মূলত ‘হাড়’। তীক্ষ্ণ ও অতিরিক্ত বাক্যের ওস্তাদ সলয়। তবে এ উপন্যাসে তিনি নিষ্ঠুরভাবে এ বিষয়গুলোকে পেছনে ফেলে এগিয়েছেন।
সলয়ের উপন্যাসটি সংক্ষিপ্ত তালিকার শীর্ষে ছিল। ওই তালিকায় আরও ছিল পড়ুয়াদের প্রিয় লেখক অ্যান্ড্রু মিলারের ‘দ্য ল্যান্ড ইন উইন্টার’ এবং কিরণ দেশাইয়ের ‘দ্য লোনলিনেস অব সোনিয়া অ্যান্ড সানি’। কিরণ ২০০৬ সালে প্রথম উপন্যাস ‘দ্য ইনহেরিট্যান্স অব লস’-এর জন্য বুকার জেতেন। এ বছর সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা অন্য উপন্যাসগুলো হলো– সুসান চোইয়ের ‘ফ্ল্যাশলাইট’, কেটি কিতামুরার ‘অডিশন’ এবং বেন মার্কোভিটসের ‘দ্য রেস্ট অব আওয়ার লাইভস’। এগুলোর মধ্যে কোনোটি সলয়কে চ্যালেঞ্জ করার কাছাকাছি পৌঁছেছে কিনা– জানতে চাইলে রডি বলেন, ‘উত্তরটি এক রকম হ্যাঁ।’ তবে তিনি ওই উপন্যাসের নাম বলেননি।
কানাডার মন্ট্রিলে হাঙ্গেরীয় বাবা ও কানাডীয় মায়ের ঘরে জন্মগ্রহণকারী সলয় লন্ডনে বেড়ে ওঠেন। তিনি লেবানন ও যুক্তরাজ্যে বসবাস করেছেন। এখন থাকেন ভিয়েনায়। অক্সফোর্ড থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি একজন আর্থিক বিজ্ঞাপন বিক্রয় নির্বাহী হিসেবে কাজ করেন, যা তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘লন্ডন অ্যান্ড দ্য সাউথ-ইস্ট’-এর অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। তিনি স্প্রিং ও দ্য ইনোসেন্ট উপন্যাসের পাশাপাশি ছোটগল্প সংকলন ‘টার্বুলেন্স’-এর লেখকও।
‘ফ্লেশ’ লেখার অনুপ্রেরণা সম্পর্কে সলয় বলেন, উপন্যাসটি ‘ব্যর্থতার ছায়ায় কল্পনা করা হয়েছিল।’ ২০২০ সালের শরৎকালে তিনি প্রায় চার বছর ধরে কাজ করে আসা একটি উপন্যাস বাদ দিয়েছিলেন। তিনি অনুভব করেছিলেন যে, এটি তাঁর মনমতো হচ্ছে না। পরে ফ্লেশ শুরু করেন, যেখানে তিনি দেখাতে চান আমাদের অস্তিত্ব অন্য কিছু হওয়ার আগে একটি শারীরিক অভিজ্ঞতা। এর অন্য সব দিক সেই শারীরিকতা থেকে উদ্ভূত। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
- বিষয় :
- পুরস্কার
- সাহিত্য
- বুকার পুরস্কার
