৩৫ বছর পর মিয়ানমার–থাই সীমান্তের মডং শহর দখলে নিল কারেন বিদ্রোহীরা
কেএনইউ বিদ্রোহী এবং তাদের মিত্ররা ৩৫ বছর পর মিয়ানমার–থাইল্যান্ড সীমান্তের কৌশলগত মডং শহর ফের দখলে নিয়েছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১৬:৩২ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১৬:৪৬
মিয়ানমারের কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের (কেএনইউ) বিদ্রোহী এবং তাদের মিত্ররা ৩৫ বছর পর মিয়ানমার–থাইল্যান্ড সীমান্তের কৌশলগত মডং শহর ফের দখলে নিয়েছে।
শুক্রবার সকালে সেখানে থাকা সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা থাই সীমান্তে পালিয়ে যাওয়ার পর তানিনথারি অঞ্চলের শহরটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় কেএনইউ-এর সশস্ত্র শাখা কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (কেএনএলএ)। সূত্র: দ্য ইরাবতী
পাহাড়ি এ শহরটি সিংখন পাস সীমান্তে অবস্থিত, এর পাশেই থাইল্যান্ডের প্রাচুয়াপ খিরি খান প্রদেশ। মডং একসমময় কেএনইউ-র মাইয়িক জেলার সদরদপ্তর ছিল, ১৯৯০ সালে এটি জান্তার দখলে চলে যায়।
শহরটি দখলে নিতে কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (কেএনএলএ) ও তাদের মিত্ররা চারদিন আগে শহরটি দখলে অভিযানে নামে। শুক্রবার সকালে জান্তাবাহিনীর শেষ সৈন্যদলকে থাইল্যান্ড পালাতে বাধ্য করে।
কেএনএলএ’র ৪র্থ ব্রিগেডের এক বিদ্রোহী দ্য ইরাবতীকে বলেন, এখন পুরো শহরের নিয়ন্ত্রণে আমরা।
কেএনইউ’র মাইয়িক জেলার সম্পাদক স এনা দো বলছেন, মডং সীমান্ত বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সামরিক কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, কেএনএলএ দুটি সামরিক চৌকি এবং একটি প্রশাসনিক কার্যালয় দখল করেছে। এ সময় আনুমানিক ৬০ জন জান্তা সেনা থাইল্যান্ডে পালিয়ে যায়।
নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টায় জান্তা বাহিনী ওয়াই-১২ উড়োজাহাজ দিয়ে বোমা হামলা চালালে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষের মধ্যে শহরটির হাজারখানেক বাসিন্দা পালিয়ে কাছাকাছি গ্রামগুলোতে আশ্রয় নেয় বলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিতে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকরা জানিয়েছেন।
মডং পুনর্দখলের ফলে কেএনইউ এখন থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে শুরু করে থেইনকুন গ্রাম পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার রাস্তা পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিলো।
তানিনথারি শহর থেকে থেইনকুনে যাওয়ার প্রধান সড়ক কেএনএলএ আটকে রাখায় জান্তা প্রায় দুই বছর ধরেই ওই এলাকায় ঢুকতে পারছে না বলে জানায় পলাতক সেনাদের একটি সূত্র।
- বিষয় :
- বিদ্রোহী
- মিয়ানমার
- থাইল্যান্ড
- দখল
