ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নাইজেরিয়ার ক্যাথলিক স্কুল থেকে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে অপহরণ

নাইজেরিয়ার ক্যাথলিক স্কুল থেকে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে অপহরণ
×

ছবি: সিএনএন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫ | ১৮:০০

নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলীয় নাইজার অঙ্গরাজ্যের একটি বেসরকারি ক্যাথলিক স্কুলে হামলা চালিয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার ভোরে সেন্ট মেরিস নামের স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় গণ-অপহরণগুলোর একটি।

ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়া জানিয়েছে, ৩০৩ জন শিক্ষার্থী ও ১২ জন শিক্ষক নিখোঁজ রয়েছেন। হামলার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী পালিয়ে যেতে পারলেও পরে আরও ৮৮ জনকে ধরে নিয়ে যায় বন্দুকধারীরা। অপহরণের শিকার শিক্ষার্থীদের বয়স ১০ থেকে ১৮ বছর। 

হামলার পর অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করে ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব নাইজেরিয়া–এর নাইজার অঙ্গরাজ্য চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান বুলুস দাউওয়া ইয়োহান্না বলেন, ‘এটি ভয়াবহ ঘটনা। নিরাপত্তাহীনতার কারণে শিশুদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়ছে।’

এদিকে এই ঘটনার পর উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে এবং আশপাশের বনাঞ্চলে তল্লাশি চলছে।

নাইজেরিয়ায় ফের স্কুলে হামলা ও অপহরণের ঘটনা বেড়েছে। এর আগে সোমবার পাশের কেব্বি রাজ্যের এক আবাসিক স্কুল থেকে ২০ জনের বেশি স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করা হয়, তারা সবাই মুসলিম বলে জানা গেছে। 

দক্ষিণের কোয়ারা রাজ্যে একটি গির্জাতেও হামলা হয়েছে। এ হামলায় ২ জন নিহত হয়েছে, অপহরণ করা হয়েছে ৩৮ জনকে।

উদ্বিগ্ন এক নারী কান্নাভেজা কণ্ঠে জানান, ৬ ও ১৩ বছর বয়সী তার দুই ভাতিজিকে অপহরণ করা হয়েছে। ‘আমি শুধু চাই তারা বাড়ি ফিরে আসুক,’ বলেন তিনি।

অপহৃত শিক্ষার্থীদের একজনের বোন ও কনটেন্ট নির্মাতা ইজে গ্লোরিয়া চিডিনমা বলেন, ‘আমরা ভীষণ আতঙ্কে আছি। সত্যি বলতে, কর্তৃপক্ষের ওপর কোনো আস্থা নেই।’

নাইজার রাজ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, হামলার ঝুঁকি বেশি বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরপরই সব আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেইন্ট মেরি সে নির্দেশ মানেনি।

‘দুঃখজনকভাবে, তারা রাজ্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে বা না জানিয়েই স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছিল, এর মাধ্যমে তারা শিক্ষার্থী ও স্কুলের কর্মীদের ঝুঁকিতে ফেলে,’ বিবৃতিতে জানায় তারা।

এ প্রসঙ্গে স্কুলের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন

×