প্রাণিজগৎ
তাসমানিয়ান বাঘের খোঁজ থামছে না
অস্ট্রেলিয়ায় বিচরণ ছিল ১৩০ বছর আগে বিলুপ্ত তাসমানিয়ান বাঘের। শিল্পীর আঁকা- সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:৫৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
তাসমানিয়ান বাঘ যেন এক বিলুপ্ত পৃথিবীর স্মৃতি। এককালে পৃথিবীতে এদের অস্তিত্ব ছিল। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক বিচরণ ছিল। প্রায় ৩ হাজার ২০০ বছর আগে অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউগিনি ও তাসমানিয়ায় রাজত্ব ছিল এদের। পরে ধারাবাহিকভাবে সংখ্যা কমতে থাকে। সর্বশেষ ১৯৩৬ সালে হোবার্ট চিড়িয়াখানায় বন্দি অবস্থায় মারা যায় একটি বাঘ। বলা হয়, এটিই ছিল পৃথিবীতে তাসমানিয়ান বাঘের সর্বশেষ প্রতিনিধি। তারপরও থেমে নেই এদের অস্তিত্ব অনুসন্ধান।
ওই বাঘের মরদেহটি সংরক্ষণে রয়েছে। এ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। এবার সুইডেনের বিজ্ঞানীরা ১৩০ বছর আগে বিলুপ্ত বাঘের আরএনএ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া বাঘটির টিস্যুতে কোন জিন সক্রিয় ছিল, তা খুঁজে বের করেছেন। এ প্রক্রিয়ায় আরএনএ বড় ভূমিকা পালন করে।
বাঘটি ‘থাইলাসিন’ নামেও পরিচিত। মুখ অন্য বাঘদের মতো না হওয়ায় এদের তাসমানিয়ান নেকড়েও বলা হয়। সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর মার্ক আর. ফ্রিডল্যান্ডার বাঘটির প্রজাতি নিয়ে গবেষণার নেতৃত্ব দেন। তাঁর কাজ কোষে আরএনএ জীববিজ্ঞান ও জিন নিয়ন্ত্রণের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। আরএনএ সাধারণত ডিএনএ’র চেয়ে দ্রুত ভেঙে যায়। ২০১৯ সালের গবেষণাপত্রে দেখা যায়, আরএনএ পারমাফ্রস্টের (শূন্যের নিচে তাপমাত্রা) মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, থাইলাসিন ছিল স্থন্যপায়ী শিকারি। তারও থলি ছিল, যা বিবর্তনে শিকারের ক্ষিপ্রতার প্রয়োজন ও আবাসস্থল হারানোর পর অদৃশ্য হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় জাদুঘরের রেকর্ড অনুসারে, ১৯৩৬ সালে ৭ সেপ্টেম্বর হোবার্টের বিউমারিস চিড়িয়াখানায় শেষ থাইলাসিনটি মারা যায়। এর নমুনা একটি সুইডিশ জাদুঘরে তাপমাত্রা শূন্যে রেখে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য এ থেকে ত্বক ও পেশির টিস্যু সংগ্রহ করা হয়।
তাসমানিয়ান বাঘ কেন বিলুপ্ত হলো– এ প্রশ্ন এখন সবার। গবেষকরা এর কয়েকটি কারণ বের করেছেন। এরমধ্যে তাসমানিয়ায় ব্যাপক শিকারকে সাধারণত এ বাঘের বিলুপ্তির জন্য দায়ী করা হয়। তবে অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে রোগ, ডিঙ্গোদের প্রবেশ ও তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। এর আবাসস্থলে মানুষের অনুপ্রবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনকেও দায়ী করা হয়। এরা সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার বড় ঘাসের তৃণভূমি ও পাহাড়ি এলাকায় থাকত।
এ বাঘ দেখতে শেয়ালের মতো হলেও লেজ বেশ লম্বা। মুখের চোয়াল ৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত বিস্তৃত করতে পারে এটি। গায়ে ডোরাকাটা দাগ।
বিলুপ্তির পর থেকে বিভিন্ন স্থানে এ বাঘের অনুসন্ধান চলে। অনেকে জীবন্ত প্রাণীর দেখা পাওয়ার খবর দেন। কিন্তু কোনো খবরেরই সত্যতা নিশ্চিত হয়নি। প্রকৃতিতে আর দেখা মেলেনি অদ্ভুত আকৃতির বাঘটির।
সূত্র: দ্য আর্থ
- বিষয় :
- প্রাণিসম্পদ খাত
