ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সমকাল এক্সপ্লেইনার

বুলেট থেকে ব্যালট, মিয়ানমারে যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে

একদিকে গৃহযুদ্ধের বিশৃঙ্খলা অপরদিকে নির্বাচন। মিয়ানমারের ভোট কি ‘প্রহসনের’ উদাহরণ হতে যাচ্ছে?

বুলেট থেকে ব্যালট, মিয়ানমারে যেভাবে নির্বাচন হচ্ছে
×

ভোটকেন্দ্রের বাইরে সড়কে টহল দিচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্য। রোববার মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে। ছবি: এএফপি

সাদিকুর রহমান

প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৫:৪৭ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৩:২৮

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে একদিকে চলছে গৃহযুদ্ধ, অন্যদিকে করা হয়েছে ভোটের আয়োজন। গৃহযুদ্ধ চলছে সামরিক সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে। এ অবস্থায় জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে কেবল ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে।

নির্বাচনে ৫৭টি দল নিবন্ধনের সুযোগ পেলেও তালিকায় নেই প্রধান রাজনৈতিক দল অং সান সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। যুদ্ধাবস্থার মধ্যে রোববার থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন।

এ অবস্থায় সামনে এসেছে কয়েকটি প্রশ্ন। গৃহযুদ্ধের মধ্যে জান্তা সরকার কীভাবে ভোট পরিচালনা করছে? এখনই কেন ভোটের আয়োজন? বলা হচ্ছে জান্তার পেছনে চীনের সমর্থন আছে, সেটি কীভাবে? সাধারণ নাগরিকরা কি বলছেন? দেশটিতে আগে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে?

তিন ধাপ ও এর কারণ
গৃহযুদ্ধের কারণে সেনাবাহিনী এতটাই চাপে পড়েছে যে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটগ্রহণের জন্য তিনটি আলাদা দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর, ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি। 

একটি ভোট কেন্দ্রে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। ছবি: এএফপি

দ্য ইরাবতির তথ্য অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে ভোট আয়োজনের ব্যাপারে জান্তা সরকার দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেছে। যেটিকে সমালোচকরা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলে উল্লেখ করেছেন। কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইতোমধ্যেই মানুষকে ভোটকেন্দ্র থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করেছে। ভোট দিতে যাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি দিয়েছে।

জান্তা প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং তাই তিন ধাপে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের তথ্য অনুযায়ী, ভিন্ন দিনে ভোট আয়োজনের মূল কারণ হলো- সেনাবাহিনী একযোগে সব এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।

এখন কেন নির্বাচন
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর পেরিয়ে গেছে পাঁচ বছর। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞাসহ নানামুখী আন্তর্জাতিক চাপে পড়েছে জান্তা সরকার। তাদের সমালোচকদের মতে, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের ক্ষমতার বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ভোট আয়োজন করা হচ্ছে। 

আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পাওয়াও মিন অং হ্লাইং সরকারের অন্যতম উদ্দেশ্য। সামরিক শাসনের কারণে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায় একঘরে হয়ে আছে। তাদের সমর্থন দিচ্ছে কেবল দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় আছেন এমন দেশের শাসকরা। যেমন- চীন ও রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশের আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়িয়েছে।

একটি কেন্দ্রের ব্যালট গণনা করছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। রোববার ইয়াঙ্গুনে। ছবি: এএফপি

এ অবস্থায় ‘নির্বাচন’ নামে একটি আয়োজনের মাধ্যমে জান্তা নিজেকে বেসামরিক সরকার হিসেবে পুনর্গঠন করতে চায়। যার লক্ষ্য অন্যান্য দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্স্থাপন করা।

‘বুলেটের’ মুখে ব্যালট
সামরিক শাসন বিরোধী অনেক সাধারণ নাগরিক নির্বাচনে ভোট দেবেন না বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছেন। কেউ কেউ হামলা ও নির্বাচনে ভোট দিতে বাধ্য হওয়ার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। 

বিবিসির সাংবাদিক জোনাথন হেড সম্প্রতি সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকা মান্দালয়ে দেখেছেন, নির্বাচনের আগে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে মানুষের মধ্যে ভয় বিরাজ করছে। একটি বাজারে জড়ো হওয়া লোকজনের অনেকেই নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। একজন শুধু বলেন, কোনো বিকল্প নেই, তাই ভোট দিতে হবে। আরেক নারী কিছুটা নিরিবিলি এলাকায় দাঁড়িয়ে বলেন, এই নির্বাচন নিয়ে সবাই ভীত। এটি প্রহসন। অনেক মানুষ মারা গেছে, নির্যাতিত হয়েছে বা অন্য দেশে পালিয়েছে। সেনারাই দেশ চালালে কিছু বদলাবে না। 

গ্রাফিকস: দ্য ইরাবতির সৌজন্যে

দেশটির ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে প্রথম ধাপে নির্বাচন হচ্ছে ১০২টিতে। ১১ জানুয়ারি ১০০টি এবং ২৫ জানুয়ারি ৬৩টিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। বাকি ৬৫টিতে নির্বাচন হচ্ছে না। প্রথমধাপে নির্বাচন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে আছে মান্দালয়, নাইপিদো ও ইয়াঙ্গুন। ইরাবতির তথ্য অনুযায়ী, নাইপিদোর প্রার্থীদের সবাই সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। 

মিয়ানমারে যখন নির্বাচন হচ্ছে, তার ঠিক এক বছর আগে ভূখণ্ডের ২১ শতাংশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিদ্রোহী ও জাতিগত গোষ্ঠীর হাতে ছিল ৪২ শতাংশ। বাকিগুলোতে তখন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছিল (বিবিসি, ২০২৪)। চলতি বছরের ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর মৌংদাও-তে শেষ সেনা পোস্টটি দখল করে। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়।  

কারা অংশ নিচ্ছে
মিয়ানমারের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের এবারের ভোটে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ব্যালট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে। যাদের মধ্যে আছে সেনাবাহিনীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা। ২০২৩ সালে জান্তা সরকার ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ভেঙে দেয়। দলটির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই এখনো কারাগারে। অভ্যুত্থানের পর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২২ হাজারের বেশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী।

নাইপিদোতে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারীদের বেশিরভাগই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। গ্রাফিকস: ইরাবতি

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, নতুন সামরিক নির্বাচন আইনের অধীনে পুনরায় নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানানোয় জান্তা সরকার যে ৪০টি দল ভেঙে দিয়েছে তার মধ্যে সু চির এনএলডিও ছিল। ওই আইনে নিবন্ধনের শর্ত হিসেবে দলগুলোকে শাসকগোষ্ঠীর প্রতি আনুগত্যের শপথ নিতে হতো। আইনটি অনুযায়ী, নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এরই মধ্যে এর আওতায় কয়েকজনকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চীন কীভাবে সমর্থন দিচ্ছে
বিদ্রোহী কিছু গোষ্ঠীকে দমিয়ে রাখা কিংবা আত্মসমর্পণের সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনের আগে জান্তাকে সহযোগিতা করেছে চীন। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে লিখে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রবিরতি ও পিছু হটার সমঝোতা করাতে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতা সংঘাতের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে। এর ফলে নির্বাচনের আগে জান্তা সরকারের অবস্থানও শক্ত হয়েছে।

একসময় বিরোধী পক্ষগুলোকে সমর্থন দিলেও এখন চীন সামরিক সরকার ও তাদের নির্বাচনে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। এর পেছনে মিয়ানমারে নিজেদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা- এমনকি দেশটির নেতৃত্ব পুনর্গঠনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যও থাকতে পারে।

চীনের কুনমিংয়ে এক সম্মেলনের ফাঁকে মিন অং হ্লাইং (বাঁয়ে) ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। গত নভেম্বরে। ছবি: এএফপি

জাতিগতভাবে সংখ্যালঘু তিনটি বাহিনীর জোট ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’ ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে লাশিওসহ একাধিক এলাকায় নাটকীয়ভাবে সাফল্য পায়। লাশিও দখল ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা এটি আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডের কেন্দ্র ছিল।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক মর্গান মাইকেলস বলেন, বিদ্রোহীরা মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু তখনই বেইজিং ‘ব্রেক কষে’ পরিস্থিতি থামায়। বেইজিংয়ের নীতি হলো রাষ্ট্র ভেঙে পড়তে দেওয়া যাবে না। তাদের যখন মনে হলো- মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ভেঙে পড়তে পারে, তখনই তারা বিদ্রোহীদের ঠেকাতে হস্তক্ষেপ করে।

এএফপিকে মর্গান মাইকেলস বলেন, চীন সামরিক সরকারকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছালেও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংকে নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ আছে। কারণ মিন অংয়ের নেতৃত্বে মিয়ানমার দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পড়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, মিন অংকে সরিয়ে দেওয়া বা তাঁর ক্ষমতা খর্ব করার মতো কিছু ঘটতে পারে। 

ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া
চীন এই নির্বাচনের বড় সমর্থক হলেও জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ এটিকে স্পষ্টভাবে ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক সতর্ক করেন, ‘সেনা নিয়ন্ত্রিত এই ভোটের পরিবেশে সহিংসতা, ভীতি সৃষ্টি ও গণগ্রেপ্তার বেড়েছে। এতে স্বাধীন বা অর্থবহ অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।’ টুর্কের এই বক্তব্য জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে ২৩ ডিসেম্বর। 

তবে বিরল খনিজ সমৃদ্ধ দেশটির সঙ্গে পুনরায় বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও কম্বোডিয়া (নিউইয়র্ক টাইমস)। সম্পর্ক শুরুর যুক্তি হিসেবে তারা এই নির্বাচনকে ব্যবহার করতে পারে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান (মিয়ানমারও সদস্য) জানিয়েছে, ভোট অবাধ ও সুষ্ঠু হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণের জন্য কোনো পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে না। 

নির্বাচনের প্রতিবাদ জানান এক বিক্ষোভকারী। জাপানের টোকিওতে মিয়ানমার দূতাবাসের সামনে। ছবি: এএফপি

গত মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারে নির্বাচন আয়োজনকে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’র প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে। এর ভিত্তিতেই তারা সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া শরণার্থীদের দেওয়া অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বা টেম্পোরারি প্রটেকটেড স্ট্যাটাস প্রত্যাহার করে নেয় (এবিসি নিউজ, অস্ট্রেলিয়া)।

আগে কি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে
মিয়ানমারের ইতিহাসের বড় একটি অংশই সামরিক শাসনকেন্দ্রিক। গত ৬০ বছরে সেখানে হওয়া কেবল তিনটি নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে বৈধ ও গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতি পেয়েছিল। এগুলোতে প্রতিবারই ভূমিধস জয় পায় সু চির দল এনএলডি। কিন্তু তারা খুব অল্প সময় ক্ষমতায় থাকতে পেরেছে।

১৯৯০ সালের নির্বাচনে এনএলডি জয়ী হওয়ার পরও সামরিক বাহিনী ফলাফল মানতে অস্বীকৃতি জানায়। অং সান সু চিকে গৃহবন্দী করা হয় এবং সেনাবাহিনী রাষ্ট্রক্ষমতা ধরে রাখে। পরের গ্রহণযোগ্য নির্বাচনটি হয় ২৫ বছর পর। সে সময় সেনাবাহিনী এনএলডিকে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে বাধ্য করে। সু চিকে কেবল বেসামরিক সরকারের প্রধান ঘোষণা করা হয়। 

শান রাজ্যে ২০১৫ সালের এক সম্মেলনে ভাষণ দেন অং সান সু চি। ফাইল ছবি: এএফপি

২০২০ সালে সেনাসমর্থিত দলকে হারিয়ে এনএলডি বড় জয় পায়। ২০২১ সালে নতুন সংসদ শপথ নেওয়ার দিনই সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটায়। অং সান সু চিসহ নবনির্বাচিত সংসদের ১২০ জনের বেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এরপর শুরু হয় গৃহযুদ্ধ।

আরও পড়ুন

×