ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইউক্রেন আগ্রাসন

ফ্লোরিডায় শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্প ও জেলেনস্কি

রাশিয়া শান্তি চায় না: জেলেনস্কি

ফ্লোরিডায় শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্প ও জেলেনস্কি
×

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৪:০৭

রাশিয়া শান্তি চায় না বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফ্লোরিডায় বৈঠকের আগে তিনি এই মন্তব্য করেন। গতকাল রোববার ফ্লোরিডায় এই বৈঠক হওয়ার কথা। প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে এটি নতুন দফার আলোচনা। 
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি একটি নতুন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এখনও রাশিয়া এই পরিকল্পনায় সমর্থন দেয়নি। ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়েও আলাদা প্রস্তাবে আলোচনা হবে। 

এই বৈঠক হচ্ছে এমন এক সময়, যখন শুক্র ও শনিবার রাতভর কিয়েভে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। জেলেনস্কির ভাষায়, এই হামলাই প্রমাণ করে, মস্কো শান্তি চায় না। 

শুক্রবার রাতে টানা ১০ ঘণ্টা ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। এতে কিয়েভে অন্তত দুজন নিহত এবং ৩২ জন আহত হন। শনিবার রাতেও নতুন করে হামলা হয়। 

ফ্লোরিডার বৈঠকে জেলেনস্কি ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার বিষয় তুলতে পারেন। কিন্তু এসব বিষয়ে রাশিয়া এখনও আপস করতে রাজি হয়নি। 
এ ছাড়া সেখানে ২০ দফার একটি নতুন শান্তি পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হবে। এটি আগের ২৮ দফার পরিকল্পনার সংশোধিত রূপ। আগের পরিকল্পনাটি অনেকের মতে রাশিয়ার পক্ষে বেশি ছিল।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস অঞ্চল নিয়ে বিরোধ এখনও বড় সমস্যা। তবে জেলেনস্কি বলেছেন, সেখানে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। বর্তমানে দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং পাশের লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় ৯৯ শতাংশ রাশিয়ার দখলে। এই দুই অঞ্চলকে একসঙ্গে দনবাস বলা হয়। 
জেলেনস্কির প্রস্তাব, রাশিয়া সেনা প্রত্যাহার করলে ইউক্রেনও দনবাস থেকে সেনা সরাতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও ক্রেমলিন কোনো মন্তব্য করেনি।

গত শনিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ইউক্রেন শান্তিপূর্ণভাবে যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কিয়েভ যদি শান্তি না চায়, তাহলে রাশিয়া সামরিকভাবেই নিজের লক্ষ্য পূরণ করবে।

তবে জেলেনস্কি নতুন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদী। তিনি একে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি মূল ভিত্তির নথি বলেছেন। তাঁর দাবি, পরিকল্পনাটি ৯০ শতাংশ প্রস্তুত। যদিও ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর অনুমোদন ছাড়া জেলেনস্কির কিছুই চূড়ান্ত নয়। তিনি জানান, রোববার নতুন খসড়া দেখার আশা করছেন এবং শিগগির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলবেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির সঙ্গে বৈঠকের পর জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভে সাম্প্রতিক হামলাই শান্তির প্রচেষ্টার জবাবে রাশিয়ার উত্তর। 

বৈঠকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেনের জন্য অতিরিক্ত ২৫০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই সহায়তার মাধ্যমে ইউক্রেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ পাবে। 

পরে জেলেনস্কি ইউরোপের নেতাদের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন এবং বলেন, পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হলে শক্ত অবস্থান দরকার। 
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎস বলেছেন, ইউক্রেন ইউরোপ ও ন্যাটো নেতাদের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছে।

সর্বশেষ হামলায় কিয়েভের জ্বালানি অবকাঠামোর বড় ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৪০ শতাংশ আবাসিক ভবন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। 
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক ও সামরিক শিল্পের কাজে ব্যবহৃত জ্বালানি স্থাপনাগুলোয় হামলা চালিয়েছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ৫০০ ড্রোন ও ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের দিকে ছোড়া হয়। এতে বহু বাড়িঘরে আগুন লাগে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। 
একটি হামলায় বিবিসি সাংবাদিক আনাস্তাসিয়া গ্রিবানোভার অ্যাপার্টমেন্ট ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি তখন লিফটে থাকলেও অক্ষত ছিলেন। 

অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করেছে, তারা মস্কোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। শনিবার রাতে আগের দিনের তুলনায় ইউক্রেনে তুলনামূলক কম হামলা হয়। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী জানায়, তারা ৩০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। 

আরও পড়ুন

×