যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনে প্রস্তুত হচ্ছে আরেকটি মার্কিন রণতরী
মার্কিন রণতরী। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:১৩
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখনও আলোচনার পর্যায়ে থাকলেও ওয়াশিংটন আবারও কঠোর পদক্ষেপের দিকেই যাচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে এখনও কূটনৈতিক পন্থায় সংকটের সমাধান গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক শক্তি বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ইরানের জলসীমায় মোতায়েন করা হবে।
ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তাঁর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি খবর শেয়ার করেছেন। এতে বলা হয়, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত করছে। ইরানের সঙ্গে যে কোনোভাবেই সমঝোতা চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আলজাজিরা জানায়, মার্কিন এই পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি গতকাল সংবাদ সংস্থা এপিকে জানান, ওই বিমানবাহী রণতরীকে ক্যারিবিয়ান সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক শক্তি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রণতরী পাঠায় ওয়াশিংটন। এর সঙ্গে রয়েছে তিনটি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ।
গত বুধবার ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। এরপরই ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলেছি, যে কোনো একটি চুক্তি পৌঁছাতে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া উচিত।’
গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ওমানে বৈঠক করেন। উভয় পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সপ্তাহে তারা আরও বৈঠকে বসতে পারেন। সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বনে দুপক্ষই একমত।
এদিকে ইরান একটি পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সকে আগের তুলনায় মজবুত করছে বলে উপগ্রহের নতুন কিছু ছবি বিশ্লেষণে বোঝা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে বিষয়টি জানতে পেরেছে বিবিসি।
মার্কিন কৌশলেই ইরানে ডলারের ঘাটতি
আলজাজিরা লিখেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্বীকার করেছেন, বিক্ষোভ উস্কে দিতে ওয়াশিংটন ইরানে ডলারের ঘাটতি তৈরি করেছে। গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়াল রেকর্ড সর্বনিম্নে এলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জার্মানির মারবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ রেজা ফারজানেগান বলেন, ইরানে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহের দুটি প্রধান চ্যানেল। একটি তেল রপ্তানি এবং অপরটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং অ্যাক্সেস। এই দুটোই একযোগে বন্ধ করে দিয়ে ডলারের ঘাটতি তৈরি করা হয়েছিল।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এখনও শক্তিশালী
এপি জানায়, গত বছর ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ ইরানের সামরিক বাহিনীর মূল উপাদানগুলো পঙ্গু করে দিয়েছিল বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু মূলত তা ঘটেনি। বাহরাইনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সাশা ব্রুচম্যান বলছেন, যদি যুদ্ধ আবার শুরু হয়, তাহলে ইরান আগের শক্তি নিয়েই প্রতিরোধে সক্ষম।
চুক্তি না হলে বেদনাদায়ক পরিণতি: ট্রাম্প
পরমাণু কর্মসূচি স্থগিতে কোনো চুক্তি না হলে ইরানকে ‘খুবই মর্মান্তিক’ পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পরবর্তী মাসের মধ্যে ফলাফল আশা করছি। আমাদের একটি চুক্তি করতে হবে। অন্যথায় এটি খুব মর্মান্তিক হতে চলেছে ইরানের জন্য। আমি চাই না এটা ঘটুক। একটা চুক্তি করতেই হবে।’
ইরান সীমান্তের কাছে মার্কিন নজরদারি বিমানের তৎপরতা
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদমাধ্যম নভোস্তি জানিয়েছে, ইরান সীমান্তের কাছে মার্কিন নজরদারি বিমানের তৎপরতা বেড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর একটি পি-৮এ পসেইডন নজরদারি বিমান বাহরাইন থেকে উড্ডয়ন করে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে গেছে। একই সময়ে এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন আবুধাবি থেকে উড্ডয়ন করে ওমান উপসাগরের ওপর দিয়ে যায়। এগুলো নজরদারি উড্ডয়ন ছিল।
- বিষয় :
- রণতরী
