ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গাজা নিয়ে জুরির মন্তব্যে ক্ষোভ

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বর্জন অরুন্ধতীর

বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব বর্জন অরুন্ধতীর
×

ছবি: আল-জাজিরা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৮:৩৪

বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেছেন বুকারজয়ী ঔপন্যাসিক ও রাজনৈতিক প্রাবন্ধিক অরুন্ধতী রায়। গাজায় যুদ্ধ চলার সময়ে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের রাজনীতির বাইরে থাকা উচিত– জুরি সদস্যদের এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার জার্মানির বার্লিনে না যাওয়ার ঘোষণা দেন গড অব স্মল থিংসের লেখক অরুন্ধতী রায়। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। সেখানে ১৯৮৯ সালের চলচ্চিত্র ‘ইন হুইচ অ্যানি গিভস ইট দোজ ওয়ানস’ প্রদর্শনীর জন্য নির্বাচিত হয়। সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন অরুন্ধতী। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারে লেখা এক নিবন্ধে তিনি বলেন, গণসহিংসতার মুখে শৈল্পিক নিরপেক্ষতার আহ্বান মূলত চোখের সামনে ঘটতে থাকা মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে আলোচনা বন্ধ করার একটি কৌশল। শিল্পী, লেখক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এটি থামানোর জন্য তাদের সাধ্যমতো সবকিছু করা উচিত।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জার্মান পরিচালক উইম ওয়েন্ডার্সের নেতৃত্বাধীন জুরিকে প্রশ্ন করা হয়, সিনেমা রাজনৈতিক ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে কি না? জবাবে ওয়েন্ডার্স বলেন, সিনেমা মানুষকে পরিবর্তন করতে পারলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বদলাতে পারে না। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের রাজনীতির বাইরে থাকতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শিল্পীদের তিনি রাজনৈতিক অংশগ্রহণকারী নয়, বরং ভারসাম্য রক্ষাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরেক জুরি সদস্য পোলিশ প্রযোজক ইওয়া পুসজিনস্কা ইসরায়েলের প্রতি জার্মানির সমর্থনের সঙ্গে উৎসবকে জড়ানো প্রশ্নগুলোকে ‘কিছুটা অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, দর্শকদের রাজনৈতিক পছন্দের জন্য শিল্পীরা দায়ী নন।

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে অরুন্ধতী রায় লিখেছেন, গাজায় যা ঘটেছে এবং যা ঘটে চলেছে, তা হলো ইসরায়েল কর্তৃক ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চালানো গণহত্যা। এই সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির সরকারের পাশাপাশি ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ দ্বারা সমর্থিত ও অর্থায়নকৃত, যা তাদের এই অপরাধের সহযোগী করে তুলেছে।

জুরি সদস্যদের মন্তব্যের প্রসঙ্গে অরুন্ধতী বলেন, সেগুলো ছিল বিস্ময়কর। শুধু শিল্পের বিষয়ে বলা কথার জন্য নয়, বরং যেসব বিষয় তারা এড়িয়ে গেছেন, সেগুলোর জন্যও এই প্রতিক্রিয়া। ফিলিস্তিন প্রশ্নে জার্মান সরকারের অবস্থান নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিরক্ত বলেও উল্লেখ করেন।

অরুন্ধতীর মতে, বিষয়টি শিল্পের স্বায়ত্তশাসনের নয়, বরং এর নৈতিক অবস্থানের। তিনি লিখেছেন, যদি আমাদের সময়ের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং শিল্পীরা রুখে দাঁড়াতে না পারেন এবং একথা বলতে না পারেন, তবে তাদের জেনে রাখা উচিত, ইতিহাস তাদের বিচার করবে। বিবৃতির শেষ অংশ অরুন্ধতী বলেন, গভীর দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হচ্ছে, আমি উৎসবে অংশ নেব না।

যুক্তরাষ্ট্রের পর জার্মানি ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। জার্মানিতে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সমালোচকেরা অভিযোগ করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন

×