ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জেলেনস্কির সাক্ষাৎকার

‘পুতিন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছেন, তাঁকে থামাতে হবে’

‘পুতিন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছেন, তাঁকে থামাতে হবে’
×

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: এএফপি

বিবিসি

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৫২

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বিশ্বাস করেন তাঁর দেশ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে হারবে না। বিজয়ী হয়েই যুদ্ধ শেষ করবে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূখণ্ডের বিনিময়ে তিনি যুদ্ধ শেষ করার ঘোর বিরোধী।

সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি তাঁর এমন ভাবনার কথা জানিয়েছেন। সঙ্গে এও বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছেন। তাঁকে পিছু হটতে বাধ্য করার একমাত্র উপায় হলো তীব্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা। তাঁকে অবশ্যই থামাতে হবে।

রাজধানী কিয়েভে সরকারি দপ্তরে বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে জেলেনস্কি আরও বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি পুতিন ইতোমধ্যেই এটি (তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ) শুরু করে দিয়েছেন। প্রশ্ন হলো তিনি আর কতটা অঞ্চল দখল করতে পারবেন? কীভাবে তাঁকে থামানো যায়...। রাশিয়া বিশ্বের ওপর ভিন্ন এক জীবনধারা চাপিয়ে দিতে চায়। মানুষ নিজের জন্য যে জীবন বেছে নিয়েছে তা পরিবর্তন করতে চায়।’

রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। ক্রেমলিনের দাবি, পূর্ব দোনেৎস্কের ২০ শতাংশ এলাকা এখনও ইউক্রেনের হাতে আছে। এটিসহ খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলের আরও কিছু এলাকা রাশিয়ার হাতে তুলে দিতে হবে।

জেলেনস্কির কাছে জানতে চাওয়া হয়, এই ভূখণ্ড বিনিময়ের মাধ্যমেও যদি যুদ্ধবিরতি আসে, তাহলে সেটি কি যুক্তিসঙ্গত নয়? জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখি। এটিকে শুধু এক টুকরো জমি হিসেবে দেখি না। জায়গাটি ছেড়ে দিলে আমাদের অবস্থান দুর্বল হবে। সেখানে বসবাসকারী লাখ লাখ মানুষকে পরিত্যাগ করা হবে। এখানে পিছু হটলে সমাজ বিভক্তি দেখা দেবে।’

জেলেনস্কি মনে করেন মানুষ না থাকলে ভূখণ্ডের কোনো মূল্য নেই। ছবি: এএফপি

দোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণ পেলে পুতিন সাময়িকভাবে সন্তুষ্ট হবেন বলে মনে করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘তাঁর (পুতিন) একটি বিরতি প্রয়োজন। আমাদের ইউরোপীয় সহযোগীরা বলছেন, পুতিনের নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে। কিন্তু আমি মনে করি তিনি বড়জোর দুই বছরের মধ্যে শক্তি ফিরে পাবেন। এরপর তিনি কোথায় হানা দেবেন আমরা জানি না। তবে তিনি যে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইবেন, তা ধ্রুব সত্য।’

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন ইউক্রেন এই যুদ্ধে জিততে পারবে না। মস্কোর কাছে নতিস্বীকার না করলে তারা হেরে যাবে। জেলেনস্কিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এমন বিশ্লেষণকে আপনি কীভাবে দেখেন? জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, ‘আমরা কি হেরে যাব? অবশ্যই না, কারণ আমরা ইউক্রেনের স্বাধীনতার জন্য লড়ছি।’

কিন্তু ইউক্রেন জিতলে সেটি দেখতে কেমন হবে? জেলেনস্কি বলেন, ‘বিজয়ের অর্থ হলো ইউক্রেনীয়দের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। হত্যাযজ্ঞের অবসান ঘটানো। আমি বিশ্বাস করি, পুতিনকে থামানো এবং ইউক্রেন দখল থেকে তাঁকে বিরত রাখাই পুরো বিশ্বের জন্য একটি বিজয়। কারণ পুতিন শুধু ইউক্রেনেই থেমে থাকবেন না।’

রাশিয়ার কাছে হারানো ভূখণ্ড উদ্ধার করাটা কি বিজয়ের লক্ষ্যের মধ্যে নেই? ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা তা করবই। সেটা একেবারে স্পষ্ট। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। কিন্তু এখনই সেটা করতে গেলে বিশাল সংখ্যক মানুষ, লাখো মানুষকে হারাতে হবে। কারণ রাশিয়ার সেনাবাহিনী বিশাল। আমরা এ ধরনের পদক্ষেপের মূল্য বুঝি। আপনার হাতে পর্যাপ্ত মানুষ থাকবে না, আপনি তাদের হারাবেন। মানুষ ছাড়া জমির কী দাম আছে? সত্যি বলতে, কোনো দামই নেই।’

আরও পড়ুন

×