ইরানে হামলা
দুপক্ষের হামলার লক্ষ্য এখন স্পর্শকাতর অবকাঠামো
ইসরায়েলের হামলায় জ্বলছে তেহরানের আকদাসিয়েহ তেল ডিপো। আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে ঘন কালো ধোঁয়া। হামলায় পুড়ে গেছে রাস্তার পাশে রাখা সারি সারি ট্যাঙ্কার। ছবি: আলজাজিরা
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১২:২৯ | আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১২:৪৮
আগুনের লেলিহান শিখার সঙ্গে আকাশ পর্যন্ত ছড়ানো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। সড়কের পাশ দিয়ে নদীর মতো বয়ে চলছে দাউদাউ করে জ্বলা আগুনের স্রোত। গতকাল রোববার যুদ্ধের নবম দিনে ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর এমন দৃশ্য দেখা গেছে। স্কুল, হাসপাতাল, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সামরিক ভবনকে লক্ষ্যবস্তু করার পর ইরানের তেল সংরক্ষণাগারে হামলা চালানো হয়েছে। স্পর্শকাতর এমন অবকাঠামোয় ইসরায়েলের হামলায় এ দৃশ্য তৈরি হয়েছে।
ইরান এ ঘটনাকে ‘প্রকাশ্য অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করে ইসরায়েলের তেল আবিব এবং প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্পর্শকাতর স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনের অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবকাঠামো পানি শোধনাগারে (লবণমুক্তকরণ) হামলা করেছে। বাহরাইনের মানুষ খাবার পানির জন্য এ প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল।
শনিবার গভীর রাতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় তেহরানের একটি তেলের ডিপো বা সংরক্ষণাগারে আগুন লেগে যায়। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সতর্ক করে বলেছে, এ ঘটনায় সৃষ্ট ধোঁয়ার কারণে এসিড বৃষ্টি হতে পারে; বেসামরিক নাগরিকরা যেন বৃষ্টির সময় বাইরে না বের হন।
এদিকে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে নবম দিনে ইরানে এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্তত এক হাজার ৩৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুই শতাধিক শিশু ও ১৯৮ নারী রয়েছেন। আহত হয়েছেন কয়েক হাজারজন। লেবাননে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি থেকে পালিয়েছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল গতকাল রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তিন কমান্ডারকে হত্যার দাবি করেছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের হামলায় এক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চারটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। তেল আবিবে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন স্থাপনা। কুয়েতে হামলায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি মার্কিন হেলিকপ্টার ঘাঁটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া গতকাল ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী ইরবিলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কুর্দি যোদ্ধাদের ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামানোর গুঞ্জনের মধ্যে এ হামলা হলো। এ যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে অসলোতে মার্কিন দূতাবাসের পাশে বিস্ফোরণ ঘটেছে।
ইরানের হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলকে বিপাকে ফেলেছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। তারা ইসরায়েলের দুই সেনাকে হত্যা করেছে। সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হাইফায় হামলা চালিয়েছে। নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে তেল আবিবকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের সঙ্গে ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন।
এর মধ্যেই ইরান নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করেছে বলে জানিয়েছে। তবে না-পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে কাজ করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিতে হবে। মার্কিন অনুমোদন ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন টিকতে পারবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস
আইআরজিসি গতকাল বলেছে, তারা এক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের থাড অ্যান্টি-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত চারটি রাডার ধ্বংস করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ বলছে, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর সময় রাডারগুলোতে নির্ভুলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স সিস্টেম নামে পরিচিত থাড হলো গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও প্রতিহত করে।
ফার্স সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজে মার্কিন হামলায় কমপক্ষে ১০৪ জন ইরানি সেনা নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত
ইসরায়েলের জরুরি বিভাগের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, গতকাল উত্তর তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। হামলা হয়েছে মধ্য ইসরায়েলের পেতাহ তিকবাতেও।
ইরানের সেনাবাহিনী বলছে, তারা ইসরায়েলের বন্দরনগরী হাইফার একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার শিকার হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি ‘লক্ষ্যবস্তু’ও। আইআরজিসি বলছে, তেল আবিবের পাশাপাশি বেয়ারশেবা শহরের ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, যুদ্ধের ৯ দিনে ইসরায়েলে প্রায় দুই হাজার জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হেলিকপ্টার ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা
আইআরজিসির বরাত দিয়ে প্রেস টিভি জানায়, তাদের নৌবাহিনী কুয়েতে মার্কিন আল-উদাইরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গতকাল এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, হামলায় হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা, জ্বালানি ডিপো, বিমান ও ঘাঁটি কমান্ড ভবন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, আক্রমণের পর ঘাঁটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘন কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। এ ছাড়া তাদের স্থলবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট আরিফজানে মার্কিন ঘাঁটি ও উত্তর-পশ্চিম ইরানে বিচ্ছিন্নতাবাদী অবস্থানগুলোতে সফল আঘাত করেছে। হামলা হয়েছে সৌদি আরবেও। দেশটি বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাঙ্কগুলোকে ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এটা ছিল গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলছেন, কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী ‘দেশটির আকাশসীমা লঙ্ঘন করা শত্রুপক্ষের ড্রোনের একাধারে টানা হামলার’ মুখোমুখি হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, জর্ডানের আজরাক শহরে মার্কিন বিমানঘাঁটি মুওয়াফাক আল-সালতিতে বেশ কয়েকবার আঘাত হেনেছে ইরান। আইআরজিসি বলছে, ‘আগামী দিনগুলোতে শত্রুদের ওপর ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর আক্রমণের পরিমাণ ও গভীরতা বাড়বে।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে ইরানের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে পৌঁছেছে। এ চারজনের মধ্যে বাংলাদেশের একজন, পাকিস্তানের দুজন ও নেপালের একজন রয়েছেন।
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ ২ জন নিহত
সৌদি আরবে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় কমপক্ষে দুজন নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার বরাত দিয়ে গতকাল আলজাজিরা জানিয়েছে, ওই দুজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্য আল-খার্জ গভর্নরেটের একটি কম্পাউন্ডে হামলাটি হয়।
কুয়েতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা নিহত
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার ভোরে জাতীয় নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনকালে দুই কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এক্সে পোস্ট করা বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলছে, জেনারেল ডিরেক্টরেট অব ল্যান্ড বর্ডার সিকিউরিটির লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ এমাদ আল-শারাহ ও ফাহাদ আবদুল আজিজ আল-মুজাম্মাদ তাদের দায়িত্ব পালনকালে নিহত হন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা
গত শনিবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ পাঁচটি স্থানে তেল সংরক্ষণাগার বা ডিপোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরে তেল ডিপোতে হামলায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন।
স্যাটেলাইট ছবি ও বিবিসির যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, গত শনিবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে স্কুল, হাসপাতাল ও ঐতিহাসিক বেশ কিছু স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সঙ্গে ইরানে বেসামরিক জনগণের মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি বা এইচআরএএনএ জানাচ্ছে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত এক হাজার ১৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ডিপোতে হামলায় বায়ু বিষাক্ত, এসিড বৃষ্টির শঙ্কা
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, তেল ডিপোতে হামলা হওয়ায় বিপজ্জনক পদার্থ এবং বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে নির্গত হচ্ছে। এতে ব্যাপক পরিমাণে জীবন বিপন্ন করছে। এর আগে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট এ আগুনের কারণে এসিড বৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় সতর্ক করে। রেড ক্রিসেন্টের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তেলের গুদামে বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত হাইড্রোকার্বন, সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইড বায়ুমণ্ডল ও মেঘের মধ্যে প্রবেশ করেছে। ফলে বৃষ্টি হলে এসব বিপজ্জনক উপাদান মাটিতে পড়বে। এতে এসিড বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।
ইরানের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন– বলছে সুইজারল্যান্ড
সুইস প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্টিন ফিস্টার বলেছেন, ইরানের ওপর আক্রমণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। গতকাল রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাদের ফেডারেল কাউন্সিলের অভিমত– এ আক্রমণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তিনি বেসামরিক লোকজনের প্রাণহানি ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
যুদ্ধ জিতে গেছি, ব্রিটেনের সহযোগিতা লাগবে না– বললেন ট্রাম্প
দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানিয়েছে, ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটেনের ঘাঁটি ব্যবহার করলেও স্টারমারের সাহায্যের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানে হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাজ্যের সমর্থন না পাওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের তীব্র সমালোচনা করেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমাদের এক সময়ের মহান মিত্র যুক্তরাজ্য অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে চিন্তাভাবনা করছে। ঠিক আছে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার; আমাদের আর আপনাদের প্রয়োজন নেই। তবে আমরা মনে রাখব। যুদ্ধে জয়লাভের পর আমাদের এমন লোকের প্রয়োজন নেই, যারা যুদ্ধে যোগ দিতে আগ্রহী!’
লেবানন থেকে ইসরায়েলকে জবাব হিজবুল্লাহর
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের হাইফা নৌঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। হিজবুল্লাহর পৃথক বিবৃতিতে এসব হামলার কথা জানানো হয়েছে। হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা ইসরায়েলের উত্তরের মিসগাভ ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালিয়েছে। গত সোমবার থেকে লেবাননের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়ায় ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত লেবাননে ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ৮৩টি। আহতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩০ জন। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর করার জন্য লেবাননের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
দীর্ঘ যুদ্ধেও ইরানে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ‘অসম্ভব’– বলছেন গোয়েন্দারা
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা কাউন্সিলের একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহৎ আকারের সামরিক আক্রমণের মাধ্যমেও ইরানের শাসন ব্যবস্থার পতন হওয়ার সম্ভাবনা কম। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের এক সপ্তাহ আগে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে বলা হয়, মূল্যায়নে দেখা গেছে, উচ্চপদস্থ নেতাদের হত্যা করা হলেও টিকে থাকার জন্য শাসকগোষ্ঠী স্পষ্ট প্রোটোকল স্থাপন করেছে।
শত্রুকে এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না ইরান: পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গে চলা যুদ্ধের মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিবেশী ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে ইরান সুসম্পর্ক চায়। তবে পেজেশকিয়ান বলেন, শত্রু দেশগুলো বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড থেকে আসা হামলার জবাব দিতে ইরান বাধ্য হচ্ছে। এর অর্থ এই নয় যে ওই নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ আছে। তিনি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইরান শত্রুকে তার এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না।
অন্তত ৬ মাস ‘তীব্র যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা আছে ইরানের: আইআরজিসি
ইরান বর্তমান আকার ও মাত্রার যুদ্ধ আরও ‘অন্তত’ ছয় মাস চালিয়ে যেতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক কর্মকর্তা। ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতির এ তীব্র যুদ্ধ অন্তত ছয় মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।
প্রতিরক্ষা জোরদারে উপসাগরীয় দেশগুলো জোট গড়ছে
উপসাগরীয় দেশগুলো একজোট হয়ে কাজ করছে। কাতার ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে দৌড়ঝাঁপ করছে। গতকাল রোববার ছিল ২২ সদস্যের আরব লিগের বৈঠক। এখানে তারা মূলত সংহতি প্রদর্শন করেছে। তাদের ভাষ্য, ইরানের প্রতিবেশীদের ওপর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অবৈধ এবং এসব হামলায় তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হচ্ছে। এই অবস্থায় দেশগুলো একটি জোট গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
