যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা সম্পর্কে জানতাম: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬ | ২২:৫৮
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা চলছিল, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্য অবগত ছিল। তিনি বলেন, “যুক্তরাজ্য উত্তেজনা হ্রাস এবং ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সংঘাতের অবসান দেখতে চায়। সেই লক্ষ্যে, আমি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া আলোচনার খবরকে স্বাগত জানাই।”
স্টারমার বলেন, ‘একটি আলোচনার মাধ্যমে হওয়া চুক্তিতে’ ইরানের ওপর ‘কঠোর শর্ত আরোপ করা উচিত, বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে।’
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ‘প্রায় সব পয়েন্টে’ ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘চুক্তি হতে হলে কোনো যুদ্ধ থাকা চলবে না এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। এই শর্তেই তারা রাজি হচ্ছে। এর বাইরে কোনো চুক্তি হবে না।’
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে প্রণালিটি অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কখনো কখনো ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
তারও আগে, গত শনিবার সন্ধ্যায় সামাজিকমাধ্যম ট্রুথে বলেন হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে হুমকি দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘ঠিক এ মুহূর্ত থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো প্রকার হুমকি ছাড়াই ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে হবে। অন্যথায় দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। আলটিমেটামেটামের সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আগামী পাঁচ দিনের জন্য সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আজ সোমবার রাত নাগাদ ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ধ্বংস করার প্রস্তুতি ছিল। কেন্দ্রটি তৈরি করতে ইরানের ১০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। তারা চায়নি সেটি ধ্বংস হোক, তাই আমাদের ফোন করেছে, আমি করিনি। তারা এখন একটি চুক্তিতে আসতে চায়।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে অস্পষ্ট মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একজন শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তির সঙ্গে কথা হয়েছে; তবে কোনো সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে কথা হয়নি। আমরা জানিও না তিনি (সর্বোচ্চ নেতা) আদৌ বেঁচে আছেন কিনা।’
ট্রাম্প আরও জানান, এই আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ; যেমন ইসরায়েল ও সৌদি আরবের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজকের মধ্যেই আবার টেলিফোনে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
- বিষয় :
- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
