বিবিসির বিশ্লেষণ
ইসরায়েলের জন্য নতুন মাথাব্যথা হতে পারে হুতি হামলা
ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৮:৪৬ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪০
ইয়েমেনভিত্তিক হুতি গোষ্ঠীর হামলা আবার শুরু হলে তা ইসরায়েলের জন্য নতুন মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়াতে পারে, যদিও সামরিকভাবে বড় ধরনের হুমকি তৈরি করার সম্ভাবনা কম- এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকেরা।
বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা পল অ্যাডমস বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হুতিরা ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও সেগুলোর প্রভাব ছিল সীমিত। অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হুতি ড্রোন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ভেদ করে তেল আবিবের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। এতে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরাসরি ইসরায়েলে হামলার চেয়ে হুতিদের বড় হুমকি হতে পারে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা।
সৌদি আরব বর্তমানে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাচ্ছে। সেখান থেকে এশিয়ার উদ্দেশ্যে জাহাজগুলো ইয়েমেন উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণ দিকে যাত্রা করে। এই পথেই হামলা চালালে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত হুতিরা লোহিত সাগরে প্রায় ২০০টি হামলা চালায়। এতে ৩০টির বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত একটি জাহাজ ছিনতাই করা হয়।
এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাবেল মান্দেব প্রণালি এবং সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আবার একই ধরনের হামলা শুরু হয় এবং একই সময়ে হরমুজ প্রণালিও অচল হয়ে পড়ে, তাহলে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে গুরুতর সংকট তৈরি হতে পারে।
হুতিদের হামলা সামরিকভাবে ইসরায়েলের জন্য বড় হুমকি না হলেও, সমুদ্রপথে তাদের তৎপরতা পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
- বিষয় :
- হুতি
- হামলা
- ইসরায়েল
- জাহাজ চলাচল
