ইসরায়েলের স্থল অভিযান প্রতিহত করছে হিজবুল্লাহ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:০৭
দক্ষিণ লেবাননে সোমবার হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ের সময় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর চার সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুজন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সেনাসদস্যদের হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধে হিজবুল্লাহ তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযানকে শক্ত হাতে প্রতিহতের চেষ্টা করেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ মার্চ থেকে লিটানি নদীর দক্ষিণে ইসরায়েল তাদের সামরিক আগ্রাসন বৃদ্ধি করেছে। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১০ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
আইডিএফ নিহত তিন সেনার নাম প্রকাশ করেছে। তারা হলেন– ক্যাপ্টেন নোয়াম মাদমোনি, স্টাফ সার্জেন্ট বেন কোহেন এবং স্টাফ সার্জেন্ট মাক্সিম এনতিস। তারা তিনজনই নাহাল ব্রিগেডের গোয়েন্দা ইউনিটে দায়িত্বরত ছিলেন। নিহত চতুর্থ সেনার নাম পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। আরেক সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় একজন রিজার্ভ সেনা আহত হয়েছেন।
আইডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম সেক্টরে অভিযান চলাকালে নাহাল গোয়েন্দা ইউনিটের সেনারা সশস্ত্র হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের একটি সেলকে লক্ষ্যবস্তু করে। খুব কাছ থেকে সেনাদের সঙ্গে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের গোলাগুলি হয়, তাদের বেশ কয়েকজন আঘাতও পেয়েছেন। বন্দুকযুদ্ধে আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার সময় হিজবুল্লাহ অপারেটররা সেনাদের দিকে একটি ট্যাঙ্কবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েন, তবে এতে কেউ আহত হয়নি। জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকার হিজবুল্লাহ অপারেটরদের বিরুদ্ধে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের আরও একজন সৈন্য নিহত হয়েছেন। এই নিয়ে ইসরায়েলের হাতে অন্তত ৯ লেবানিজ সৈন্য প্রাণ হারালেন। যদিও লেবানন সেনাবাহিনী যুদ্ধে সরাসরি ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে লড়ছে না।
হিজবুল্লাহর সামরিক শাখা নিষিদ্ধ করল লেবানন
হিজবুল্লাহর সামরিক শাখাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে লেবানন সরকার। দেশটির একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল হাদাথ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। লেবানন সরকার একটি চিঠির মাধ্যমে জাতিসংঘকে জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক শাখাকে ‘অপরাধী সংগঠন’ হিসেবে গণ্য করছে। চিঠিতে ২ মার্চের একটি সরকারি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহর সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। লেবাননের এই সিদ্ধান্তকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত চাপের মুখে বৈরুতের এই অবস্থান নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
নিহত হচ্ছেন চিকিৎসক, সাংবাদিক ও শান্তিরক্ষীরা
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল এবং ইরানসমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করছে ইউনিফিল। ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত এক হাজার ২৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১২০ জনের বেশি শিশু, প্রায় ৮০ জন নারী এবং বেশ কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শনি ও রোববার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০ জন প্যারামেডিক বা চিকিৎসক নিহত হয়েছেন। শনিবার এক গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তিন সাংবাদিক নিহত হন।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ইন্দোনেশিয়ার তিন শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত বলেন, ‘শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত।’
- বিষয় :
- হিজবুল্লাহ
- ইসরায়েলি আগ্রাসন
