ইরানে হামলা
ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ ঘিরে অবরোধ
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:৪২ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১৫:০৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানে আবার বিমান হামলা শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। অন্যদিকে গতকাল সোমবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি উত্তেজনা বাড়ায় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্ত প্রতিক্রিয়া দেবে। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর গতকাল সোমবার সকাল ১০টা (জিএমটি ১৪০০) থেকে হরমুজ উপকূলে অবরোধ শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী।
পরে ইরানি একটি জাহাজকে হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, উপসাগরে অবরোধ অঞ্চলে কোনো জাহাজ এলে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে বিমান হামলার পাশাপাশি আরও কিছু পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ, যা তিনি গত রোববারই ঘোষণা করেন। হামলার বিষয়টি জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিবিসিকে বলা হয়, সব বিকল্পই খোলা আছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ইরানের চাঁদাবাজি বন্ধের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি বিচক্ষণতার সঙ্গে অন্যসব বিকল্প বিবেচনায় রেখেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবেন, এ বিষয়ে কেউ যদি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে কিছু বলে থাকেন, তা সম্পূর্ণই অনুমাননির্ভর।
আলজাজিরা জানায়, ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি অবরোধ করার ঘোষণার সমালোচনা করেছে রাশিয়া। গতকাল ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি অবরোধ করলে তা বিশ্ববাজারের জন্য ক্ষতিকর হবে। মার্কিন অবরোধ সমর্থন না করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এ ছাড়া ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ হরমুজ নিয়ে সংকট সমাধানে ‘বহুজাতিক’ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। হরমুজ সংকট নিয়ে ফোনালাপ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ও পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন হরমুজ প্রণালির চলমান অবরোধ মারাত্মক ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের অবরোধকে সমর্থন করেছেন নেতানিয়াহু। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ইসলামাবাদের আলোচনায় ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ পৌঁছে গিয়েছিল।
অবরোধ নিয়ে কী বলেছেন ট্রাম্প
রোববার ট্রুথ সোশ্যালে একটি দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি অবরোধের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা প্রস্থানের চেষ্টাকারী যে কোনো এবং সব জাহাজ অবরোধ করার প্রক্রিয়া শুরু করবে। এই অবরোধে অন্যান্য দেশও জড়িত থাকবে। তিনি ওই পোস্টে বলেন, মার্কিন বাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা এমন প্রতিটি জাহাজকেও আটক করবে, যেগুলো ইরানকে টোল দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড পরে জানায়, মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে অ-ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর নৌচলাচলের স্বাধীনতায় বাধা দেবে না। গতকাল ভোরে ট্রাম্প আবারও পোস্ট করেন। তাতে ইঙ্গিত দেন, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়ানো হতে পারে।
মার্কিন অবরোধ পরিকল্পনায় কী আছে
গতকাল নাবিকদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির আগে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে একটি অবরোধ কার্যকর করবে। এটি সব জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বার্তায় বলা হয়েছে, ‘অনুমতি ছাড়া অবরোধ এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে প্রস্থানকারী যে কোনো জাহাজকে আটক, পথ পরিবর্তন ও জব্দ করা হবে।’
এই অবরোধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান-বহির্ভূত গন্তব্যে বা সেখান থেকে নিরপেক্ষ জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না। নাবিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, চোরাচালানের পণ্য আছে কিনা জানতে যে কোনো নিরপেক্ষ জাহাজও তল্লাশির সম্মুখীন হতে পারে। এতে বলা হয়েছে, খাদ্য, চিকিৎসা সামগ্রী এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্যসহ মানবিক সহায়তামূলক চালানগুলোও তল্লাশির পর প্রবেশের অনুমতি পাবে।
তেলের দাম বেড়ে ১০২ ডলার ছাড়াল
ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন ও তেহরানের ব্যর্থ আলোচনা ও মার্কিন অবরোধের ঘোষণায় গতকাল তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। এই পদক্ষেপ ইরানের তেল রপ্তানিকে সীমিত করতে পারে। গত শুক্রবার ০.৭৫ শতাংশ পতনের পর, ১২১৫ জিএমটি নাগাদ দাব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ৭.৩২ ডলার বা ৭.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
- বিষয় :
- ইরানে হামলা
- পাকিস্তান
