সন্দেহভাজন ৬ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করল ভারতীয় পুলিশ
প্রতীকী ছবি
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩:১৫
ডাকাতি ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানোর সন্দেহভাজন হিসেবে ছয় বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের দিল্লির পুলিশ। দেশটির একাধিক রাজ্যে অপরাধের জড়িয়ে থাকার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই বাংলাদেশের একটি ডাকাত গোষ্ঠীর সদস্য। প্রতিটি অপরাধের পরই তারা প্রতিবেশী দেশে পালিয়ে যেত। ফের ভারতে ঢুকে পরবর্তী অপরাধে লিপ্ত হতো।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে তাদের ধরতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একসময় দু’পক্ষে সংঘর্ষ হয়। পরে দিল্লির সরাই কালে খানের কাছে থেকে তাদের ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, নিজেদের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার জন্য এই চক্রটি ভারতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্থানীয় পরিচিতজন ও আত্মীয়স্বজনদের একটি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করত।
আজ বুধবার পুলিশের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তরা সবাই বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা। একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ ও ১৫ এপ্রিলের মধ্যবর্তী রাতে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের ‘চাঁদাবাজি ও অপহরণ দমন শাখা’ পরিচালিত একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ধরা পড়ে তারা।
তিনি আরও জানান, পুলিশ সদস্যরা যখন সন্দেহভাজনদের আটক করার চেষ্টা করে, তখন পালানোর উদ্দেশ্যে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশ জানায়, তারা সংযতভাবে পাল্টা গুলি চালায় এবং তাদের মধ্যে ছয়জনকে নিরস্ত্র করে এবং ধরে ফেলে।
গ্রেপ্তারকরা হলেন-সুমন হালদার ওরফে পান্নু, সাইফুল ইসলাম, সোহেল শেখ, মোহাম্মদ নাসির, নূর ইসলাম ওরফে নাদিম খান ও জাকির হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও তাদের দুই সহযোগী রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে চারটি দেশি পিস্তল, তাজা কার্তুজ, ব্যবহৃত কার্তুজের খোল এবং বাড়ি ভাঙার বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
পুলিশের তথ্যমতে, এই অপরাধী চক্রটি গত বেশ কয়েক বছর ধরে হিট-রান-হাইড কৌশল অবলম্বন করে সক্রিয় ছিল। তারা দিল্লি এবং গোয়া, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ ও ওড়িশাসহ অন্যান্য রাজ্যের বিত্তবান পরিবারগুলোকে, বিশেষ করে যেসব পরিবারের বয়স্ক সদস্য রয়েছেন তাদেরকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নিত।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করত। অত্যন্ত নৃশংস সহিংসতার মাধ্যমে ডাকাতি সংঘটিত করত এবং এরপর গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেত। সেখানে কয়েক মাস আত্মগোপনে থাকার পর তারা পুনরায় ফিরে আসত এবং নতুন নতুন এলাকাকে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানাত।
চক্রটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যে অন্তত ১৪টি ডাকাতি, লুট এবং হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গোয়ার মাপুশায় ২০২৫ সালে দায়ের করা এমন একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক একটি বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের বেঁধে ফেলে, তাদের ওপর হামলা চালায় এবং ৩৫ লাখ রুপি মূল্যের নগদ অর্থ ও গয়না লুট করে পালিয়ে যায়।
- বিষয় :
- ডাকাতি
- হত্যাকাণ্ড
