রাতের আকাশে উল্কাপাত আর গ্রহদের লুকোচুরি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০১:০২
বসন্তের বিদায় আর গ্রীষ্মের আগমনে প্রকৃতি যখন নতুন রূপ নিচ্ছে, ঠিক তখনই মহাকাশপ্রেমীদের জন্য সেজে বসেছে রাতের আকাশ। গতকাল শুক্রবার থেকে চলতি মাসজুড়ে বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাচ্ছে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য।
একদিকে ধূলিকণার অগ্নিঝলক নিয়ে হাজির হচ্ছে লাইরিড উল্কাপাত। অন্যদিকে গ্রহদের লুকোচুরি আর ভিনগ্রহের গ্যালাক্সির হাতছানি মিলিয়ে এক রোমাঞ্চকর সময় পার হতে যাচ্ছে।
চলতি মাসের শেষার্ধের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো লাইরিড উল্কাপাত। প্রতি বছর এই সময়ে পৃথিবী যখন ‘সি/১৮৬১ জি১ থ্যাচার’ নামের একটি প্রাচীন ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণার মেঘ পার হয়, তখনই দেখা যায় এই চমৎকার দৃশ্য। দীর্ঘ ৪১৫ বছর পর পর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করা এই ধূমকেতুর অবশিষ্টাংশ যখন ঘণ্টায় প্রায় এক লাখ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন ঘর্ষণের ফলে জ্বলে ওঠে আগুনের ফুলকি হয়ে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই উল্কাপাত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চললেও সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে ২১ এপ্রিল রাত থেকে ২২ এপ্রিল ভোর পর্যন্ত। মেঘমুক্ত অন্ধকার আকাশ থাকলে প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি উল্কা দেখার সুযোগ মিলবে।
গ্রহ-নক্ষত্রের সঙ্গে চাঁদের লুকোচুরি
উল্কাপাতের রোমাঞ্চের পাশাপাশি আগামী কয়েক দিন রাতের আকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানেও আসবে নাটকীয় পরিবর্তন। আজ শনিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে দেখা মিলবে এক নান্দনিক দৃশ্যের। উজ্জ্বল শুক্র গ্রহের ঠিক পাশেই অবস্থান করবে এক ফালি সরু চাঁদ, আর তাদের ঠিক ওপরেই হীরকখণ্ডের মতো জ্বলজ্বল করবে কৃত্তিকা বা সেভেন সিস্টার্স নক্ষত্রপুঞ্জ।
তবে প্রকৃত লুকোচুরির দেখা মিলবে আগামীকাল সন্ধ্যায়। এদিন চাঁদ তার কক্ষপথে চলার সময় কৃত্তিকাকে আড়াল করে দেবে। পৃথিবী থেকে মনে হবে, নক্ষত্রগুলো হঠাৎ চাঁদের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে এবং কিছুক্ষণ পর আবার অন্য প্রান্ত দিয়ে উঁকি দিচ্ছে। এ সময় পাশে থাকা শুক্র গ্রহ পুরো দৃশ্যটিকে আরও মোহনীয় করে তুলবে।
আগামী মঙ্গলবার চাঁদ যখন লাইরা নক্ষত্রপুঞ্জের কাছে পৌঁছাবে, তখন এর মৃদু জ্যোৎস্না উল্কাপাত দেখার ক্ষেত্রে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করতে পারে। তবে ভোরের আকাশে দেখা যাবে ভিন্ন এক চমৎকার দৃশ্য– শনি, মঙ্গল ও বুধ গ্রহের এক বিরল সহাবস্থান বা ‘ট্রায়ো’। এটি খালি চোখে দেখা গেলেও শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে এদের খুব কাছেই বরফদানব নেপচুনকেও শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
বিদায় নিচ্ছে বিরল ধূমকেতু
এবারের আকাশের আরেক বিদায়ী সুন্দর অতিথি হলো ধূমকেতু ‘সি/২০২৫ আর৩ (প্যানস্টার্স)’। এটি বর্তমানে পৃথিবীর দিগন্তের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধূমকেতুটি শেষবারের মতো আমাদের সৌরজগৎকে বিদায় জানাচ্ছে। এরপর এটি মহাকাশের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে, যা আর কোনোদিন মানুষের চোখে ধরা দেবে না। সূর্যোদয়ের ঠিক আগে পুব আকাশে টেলিস্কোপের সাহায্যে এর সবুজ আভা দেখা যেতে পারে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, ধূমকেতুটি আজ শনি ও আগামীকাল রোববারই শেষ দেখা যাবে। সোমবারের পর এটি সূর্যের এতটাই কাছে চলে যাবে, গোধূলির আলোয় এটিকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।
যেভাবে দেখবেন
এই মহাজাগতিক দৃশ্যগুলো উপভোগ করতে কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নেই। তবে শহরের কৃত্রিম আলো থেকে দূরে কোনো খোলা ছাদ বা মাঠ থেকে আকাশ দেখা ভালো। উল্কাপাত দেখার জন্য অন্তত ২০ মিনিট অন্ধকারে চোখ সইয়ে নিতে হবে। সূত্র: অ্যাস্ট্রোনমি ও আইএফএল সায়েন্স
- বিষয় :
- মহাকাশ
