‘আমরা আর এই যুদ্ধ সহ্য করতে পারছি না’
ফাইল ছবি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:২৩
দক্ষিণ লেবাননের আইতারুন গ্রামের বাসিন্দা হুদা কামাল মনসুর। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তার এলাকায় বোমাবর্ষণ শুরু করলে প্রাণ বাঁচাতে তিনি বৈরুতে পালিয়ে যান।
তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি যুদ্ধবিরতি মানুষকে তাদের বাড়িতে ফেরার সুযোগ দেবে। তবে তেমনটা ঘটেনি। আলজাজিরাকে মনসুর বলেন, ‘প্রতিবার যখন আমাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়, তখন ভিন্ন ভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়। আগে ছিল গাজার যুদ্ধ, এখন ইরান। আমরা আর এই যুদ্ধগুলো সহ্য করতে পারছি না।’
বৈরুতের একটি খালি স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন মনসুর। এখানে বহু বাস্তুচ্যুত পরিবারের আশ্রয়স্থল। ৪৫ দিন ধরে মনসুর তার ৯ বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে সেখানে বসবাস করছেন।
মনসুর বলছেন, ‘যখন ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা শুরু করে, তখন আমাদের ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মধ্যে কোনো দূরত্বই ছিল না। আমি শুধু গ্রামগুলোতে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। আমাদের গ্রাম থেকে সরে যেতে বলা হয়েছিল, ট্যাঙ্কগুলো আমাদের ঘিরে ফেলে।’
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শুক্রবার রাতেও দক্ষিণ লেবাননের তিনটি ভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের দেইর আল-জাহরানি, রেমান ও আল-সামিয়ায় হিজবুল্লাহর স্থাপনায় হামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিন্ট জেবাইল শহরে ভবন উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। দক্ষিণ লেবাননের খিয়ামে আবাসিক ব্লকেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।
রাফা মডেলে ধ্বংসযজ্ঞ
লেবাননে যুদ্ধবিরতির পরও ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। সিএনএন লিখেছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং স্যাটেলাইট চিত্রে একাধিক জনপদে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে। শত শত ভবন মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, সীমান্তের কাছের গ্রামগুলোর সব বাড়িঘর ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এই কৌশলকে তিনি ‘রাফা ও বেইত হানুন মডেল’ বলে অভিহিত করেছেন।
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, খননযন্ত্র ও সাঁজোয়া যানগুলো ইতোমধ্যেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। মার্চ মাসের অভিযানের প্রথম ১০ দিনেই ২২টি জনপদজুড়ে ৫২৩টি ভবন ধ্বংস করা হয়েছে। নেতানিয়াহুও লেবাননের অভ্যন্তরে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ইসরায়েলি অবস্থান সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। যাকে ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন এরিয়া’ বা ‘অগ্রবর্তী প্রতিরক্ষা রেখা এলাকা’ বলা হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন হলুদ রেখা ৫৫টি শহর ও গ্রামকে দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
আরও গভীর হচ্ছে বাস্তুচ্যুতির চক্র
চলমান অভিযানগুলো দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বাস্তুচ্যুতির চক্রকে আরও গভীর করেছে। ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির মতে, প্রায় ১৩ লাখ লেবানিজ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুতির শিকার হাসান রাম্মাল সিএনএনকে বলেন, ‘নিজের স্মৃতি, নিজের বাড়ি, নিজের হাতে লাগানো গাছ-গাছালি, নিজের হাতে গড়া ও বড় করা প্রাণীসহ সব ছেড়ে আসা গভীর বেদনা দেয়। ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের গ্রাম প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।’ আরেক বাসিন্দা আলি আল-আব্বানি বলেন, ‘এ যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’
২৭ সাংবাদিক নিহত, ইসরায়েলের নিন্দায় যুক্তরাজ্য-ফিনল্যান্ড
লেবাননে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ফিনল্যান্ড। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশ দুটি।
