পুতিন-ট্রাম্পের ৯০ মিনিট ফোনালাপ, ছিল ইরান-ইউক্রেন প্রসঙ্গ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: সংগৃহীত
এএফপি
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:২১ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:২২
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের এক ফোনালাপে ইরান ও পারস্য উপসাগর অঞ্চলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রায় ৯০ মিনিটের ওই ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ের পাশাপাশি ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।
সাংবাদিকদের ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোকে ট্রাম্পের সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন ভ্লাদিমির পুতিন। এতে আলোচনা এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে সহায়তা করবে।
স্থানীয় সময় বুধবারের ওই ফোনালাপে পুতিন জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবার সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তা শুধু ইরান ও প্রতিবেশীদের জন্য নয়, পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। ফোনালাপের বরাত দিয়ে ইউরি উশাকভ আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সাধ্যের মধ্যে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে রাশিয়া।
এদিকে ফোনালাপের বিষয়ে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, পুতিনের সঙ্গে তাঁর খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। এতে, ইরানের চেয়ে ইউক্রেন যুদ্ধই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, পুতিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শেষ করতে সহায়তা করতে চান। তবে এর আগে তাঁকে ইউক্রেনে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব
ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্পের অনুরোধে ভ্লাদিমির পুতিন বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এ সময় কিয়েভ সরকারের আচরণ নিয়ে পুতিন ও ট্রাম্প একই ধরনের মূল্যায়ন করেছেন। তাদের মতে, ইউরোপীয়দের প্ররোচনা এবং ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্ব সংঘাত দীর্ঘায়িত করার নীতি অনুসরণ করছে।
উশাকভ জানান, পুতিন বলেছেন তিনি বিজয় দিবস উদযাপনের সময় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পও এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছেন।
রাশিয়া প্রতি বছর ৯ মে বিজয় দিবস পালন করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে মস্কোতে সামরিক কুচকাওয়াজের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করা হয়।
