ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত
যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা চায় লেবানন
ছবি: রয়টার্স
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ২৩:৪৫
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে এবং থমকে যাওয়া আলোচনা পুনরায় শুরু করতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরাসরি আলোচনায় বসার আগে ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। গত কয়েক দিনে দখলদার দেশটির অব্যাহত হামলায় ২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈরুত এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, লেবানন সরকার আলোচনার তারিখ নির্ধারণের জন্য ওয়াশিংটনকে অনুরোধ জানালেও মাঠের পরিস্থিতি বেশ জটিল। তিন সপ্তাহ আগে হিজবুল্লাহ প্রথম যুদ্ধবিরতির দাবি জানালেও ইসরায়েল তাদের হামলা অব্যাহত রাখে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবল চাপে ইসরায়েল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, উভয়পক্ষই দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বিমান হামলা ও পাল্টা হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের ওপর জোরালো কোনো চাপ না আসা পর্যন্ত এই সংঘাত থামার লক্ষণ নেই।
এএফপি জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ক্রমাগত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে ঘরবাড়ি ও উপাসনালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। দিন দিন হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট আউন আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বেসামরিক নাগরিক, প্যারামেডিক এবং মানবিক সহায়তা কর্মীদের ওপর হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করা জরুরি। আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন মেনে চলতে তিনি ইসরায়েলকে বাধ্য করার দাবি জানান।
দক্ষিণ লেবাননে রক্তক্ষয়ী হামলা
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। জেবচিত এলাকায় একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হওয়ায় তিনজন নিহত ও সাতজন আহত হন। এ ছাড়া তুল শহরে একটি ভবনে হামলায় চারজন এবং হারুফ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় আরও দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধবিরতির দুই সপ্তাহ পার হতে চললেও এমন রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামছেই না।
গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনে ইতোমধ্যে দুবার বৈঠকে বসেছেন, যা কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম। যদিও হিজবুল্লাহ এই আলোচনাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি প্রেসিডেন্ট আউন ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করবেন।
তবে লেবাননের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে লেবাননের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ (আইডিএফ) ইয়াল জামির। দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন ইসরায়েলি বাহিনীর সদস্যদের পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। আপনাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। উত্তর ইসরায়েলের জনপদগুলো থেকে সরাসরি ও পরোক্ষ হুমকি দূর করতে হবে। ‘সন্ত্রাসীদের’ অবকাঠামো ধ্বংস ও তাঁদের খুঁজে বের করে নির্মূল করতে হবে।’’
- বিষয় :
- ইসরায়েল
- হামলা
- লেবানন
- যুদ্ধবিরতি
